রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা জাতিসংঘ দূতের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪৭ বার

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুজের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের করণীয় এবং বাংলাদেশের ভূমিকাকে বিশেষভাবে আলোচনায় আনা হয়।

বৈঠকে টম অ্যান্ড্রুজ রোহিঙ্গা সংকটকে বিশ্ব পরিসরে গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করার জন্য প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বের উচ্চ প্রশংসা করেন। তিনি স্মরণ করেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে, সেটি মূলত প্রধান উপদেষ্টার উদ্যোগের ফল। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ কেবল সংকট সমাধানের আলোচনাকে সামনে এগিয়ে দেবে না, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ববোধও আরও জোরদার করবে।

অ্যান্ড্রুজ বৈঠকে বলেন, “রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও সহায়তা প্রদানে বাংলাদেশের উদারতায় বিশ্ব কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে স্থায়ী সমাধানের আশা ধরে রাখার জন্য আপনার নেতৃত্ব বিশেষভাবে প্রশংসনীয়।” তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ শুধু মানবিক সহায়তাই দিচ্ছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথও খুঁজছে—যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে আশা প্রকাশ করেন যে, আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলন দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনে কার্যকর সমাধানের পথ উন্মোচন করবে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা ক্রমশ কমে আসায় বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং মৌলিক সেবা প্রদানে চরম সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি অ্যান্ড্রুজকে অনুরোধ জানান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করতে যেন তিনি অব্যাহত প্রচেষ্টা চালান।

বৈঠকে টম অ্যান্ড্রুজ আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ বিভিন্ন পক্ষকে সংযুক্ত করে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করছে। তবে রাখাইন রাজ্যে স্থিতিশীলতা আনা এবং শরণার্থীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিবের মানবিক চ্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ বিদ্বেষমূলক প্রচারণার কারণে ব্যাহত হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। তা সত্ত্বেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে শিগগিরই একটি টেকসই সমাধান সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব অব্যাহত রাখতে তিনি আহ্বান জানান।

জাতিসংঘ দূতের এই সফরকে কেন্দ্র করে আগামী ২৫ আগস্ট কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ইস্যুতে স্টেকহোল্ডার সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে টম অ্যান্ড্রুজ অংশগ্রহণ করবেন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ওই সংলাপের উদ্বোধন করবেন। এ সংলাপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, উন্নয়ন সহযোগী এবং স্থানীয় পক্ষগুলোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে রোহিঙ্গাদের টেকসই সমাধানের বিষয়ে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশে একটি দীর্ঘস্থায়ী মানবিক ও রাজনৈতিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতন ও দমননীতি থেকে প্রাণ বাঁচাতে লাখো রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিলেও এতদিনেও তাঁদের প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়নি। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। টম অ্যান্ড্রুজের এ সফর তাই শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং সংকট নিরসনে নতুন করে আন্তর্জাতিক সচেতনতা জাগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত