প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নতুন বিস্ময় হয়ে উঠেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার ম্যাথু ব্রিটজকে। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে তার পথচলা শুরু হলেও ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল মাত্র ছয় মাস আগে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। অথচ এত স্বল্প সময়ে ওয়ানডে ফরম্যাটে তিনি গড়ে তুলেছেন একের পর এক ইতিহাস, যা তাকে ক্রিকেটবিশ্বে নতুন আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত করেছে।
শুক্রবার কুইন্সল্যান্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাট করতে নেমে সংগ্রহ করে ২৭৭ রান। লড়াকু এ পুঁজিতে সর্বাধিক অবদান রাখেন ব্রিটজকে। তার ব্যাট থেকে আসে ৭৮ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায় সাজানো দৃষ্টিনন্দন ৮৮ রান। এ ইনিংস দিয়েই তিনি রেকর্ডবুকে জায়গা করে নিলেন এক অনন্য কীর্তির—ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে অভিষেক পর্বের টানা চার ম্যাচেই অর্ধশতক করার গৌরব অর্জন করলেন তিনি। শুধু তাই নয়, এই চার ম্যাচ শেষে তার সংগ্রহ দাঁড়াল ৩৭৮ রানে, যা ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথম চার ম্যাচে কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টেম্বা বাভুমা, যিনি ক্যারিয়ারের প্রথম চার ম্যাচে করেছিলেন ২৮০ রান।
ব্রিটজকের আন্তর্জাতিক ওয়ানডে যাত্রা শুরু হয়েছিল গত ১০ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই অভিষেকেই তিনি বাজিমাত করেন ১৫০ রানের ইনিংস খেলে। যা ওয়ানডে অভিষেকে সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ড। এর আগে ১৯৭৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ডেসমন্ড হেইন্স অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৪৮ রানের ইনিংস খেলে ছিলেন রেকর্ডধারী। ব্রিটজকে সেই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছেন নির্ভার ব্যাটিংয়ে।
দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষেও তিনি থেমে থাকেননি। খেলেন ৮৩ রানের দৃঢ় ইনিংস। এর মাধ্যমে হয়ে ওঠেন ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার, যিনি অভিষেকের দুই ম্যাচেই ২০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। তার সংগ্রহ তখন দাঁড়িয়েছিল ২৩৩ রানে। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে খেলেন ৫৭ রানের কার্যকর ইনিংস, যা দক্ষিণ আফ্রিকাকে এনে দেয় ৯৮ রানের বড় জয়। সেই ম্যাচ শেষে রেকর্ডবুকে যোগ হয় আরেকটি ইতিহাস—অভিষেকের প্রথম তিন ম্যাচে সর্বাধিক রান, মোট ২৯০।
চতুর্থ ম্যাচে এসে রেকর্ডের ফর্দ আরও দীর্ঘ করলেন তিনি। ২৬ বছর বয়সী এই ব্যাটার এখন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছেন। একের পর এক ধারাবাহিক ইনিংস শুধু তার ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানকেই সমৃদ্ধ করেনি, বরং দলকেও দিয়েছে স্থিতি ও আস্থা। ক্রিকেটবিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তার এমন অসাধারণ ধারাবাহিকতা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভবিষ্যতের ওয়ানডে ফরম্যাটে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
এখন প্রশ্ন একটাই—ম্যাথু ব্রিটজকের ব্যাট থেকে আর কত রেকর্ড ভাঙা ও নতুন ইতিহাস লেখা বাকি? দক্ষিণ আফ্রিকার সমর্থকরা যেমন, বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীরাও অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছেন, ক্রিকেটের এই নতুন তারকা ভবিষ্যতে কতদূর যেতে পারেন।