ফ্যাব্রিজিও রোমানোদের অগোচরে সাবেক বার্সা তারকাকে চমক হিসেবে মাঠে নামাল পোর্তো

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩৪ বার
ফ্যাব্রিজিও রোমানোদের অগোচরে সাবেক বার্সা তারকাকে চমক হিসেবে মাঠে নামাল পোর্তো

প্রকাশ: ২৩ অগাস্ট ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ইউরোপের আধুনিক ফুটবলে দলবদলের খবর মানেই যেন সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো বা ডেভিড ওর্নস্টেইনের একান্ত দখল। কোন খেলোয়াড় কোথায় যাচ্ছেন, কত টাকায় যাচ্ছেন বা কবে যাচ্ছেন—সবকিছুই আগেভাগে ফাঁস হয়ে যায় তাদের সূত্রে। ফলে সমর্থকরা আর তেমন কোনো চমক পান না, ক্লাবগুলোর ঘোষণাও হয়ে দাঁড়ায় শুধু আনুষ্ঠানিকতার বিষয়।

কিন্তু এমন এক সময়ে পর্তুগালের শক্তিশালী ক্লাব পোর্তো এমন এক কাণ্ড ঘটিয়েছে, যা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে হয়েছিল। তারা গোপনে দলে ভিড়িয়ে মাঠে হাজির করেছে সাবেক বার্সেলোনা তারকা লুক ডি ইয়ংকে। কোনো গণমাধ্যম, এমনকি ট্রান্সফার মার্কেটের খুঁটিনাটি জানার জন্য বিখ্যাত সাংবাদিকদেরও pi পেরিয়ে গিয়েছিল এই খবর।

ঘটনাটি ঘটে ৩ আগস্ট, আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচে। এস্তাদিও দ্রাগাওয়ে খেলা শুরু হওয়ার আগে হঠাৎ করেই স্টেডিয়ামের লাউডস্পিকারে ঘোষণা আসে—“এক চমকপ্রদ সাইনিং অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্য।” মুহূর্তেই দর্শকদের মাঝে কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে। কেউই এমন কোনো খবর শোনেননি আগে। ঠিক তখনই মাঠে পিঠে ২৬ নম্বর জার্সি পরে হাজির হন লম্বা দেহের, সোনালি চুলের ডাচ স্ট্রাইকার লুক ডি ইয়ং।

লুক ডি ইয়ংয়ের নাম বার্সেলোনার সমর্থকদের কাছে পরিচিত। লিওনেল মেসির বিদায়ের পর যখন ক্লাব কঠিন সময় পার করছিল, তখন অর্ধেক মৌসুমে মাত্র ২৯ ম্যাচে সাত গোল করে তিনি সমর্থকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। যদিও তাঁর বার্সায় সময় দীর্ঘ হয়নি, তবে সংকটকালীন সময়ে দলকে ভরসা দেওয়ার কারণে তিনি বিশেষ সম্মান অর্জন করেছিলেন।

পোর্তো তাঁকে দলে ভেড়াল সম্পূর্ণ গোপনীয়তায়। পুরো প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন মাত্র আটজন ব্যক্তি—ক্লাব সভাপতি আন্দ্রে ভিয়াস বোয়াস, কোচ ফ্রান্সেস্কো ফারিওলি, আর্থিক পরিচালক, ডি ইয়ং ও তার এজেন্টসহ হাতে গোনা কয়েকজন। বিমান থেকে নামার পর তাঁকে দ্রুত কালো কাঁচের গাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হয় যাতে কেউ চিনতে না পারে। মেডিকেল পরীক্ষার সময়ও তাঁর পরিচয় গোপন রাখতে অভিনব কৌশল নেওয়া হয়েছিল—তাকে হ্যান্ডবল খেলোয়াড় হিসেবে রেজিস্টার করা হয়েছিল।

এমনকি সতীর্থ খেলোয়াড়দের কাছেও বিষয়টি গোপন রাখা হয়। ম্যাচের ঠিক আগে ড্রেসিংরুমে নতুন সহখেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রথম পরিচিত হন ডি ইয়ং। ফলে যখন মাঠে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয় এবং তিনি দর্শকদের সামনে হাজির হন, তখন এস্তাদিও দ্রাগাওয়ের প্রায় ৪৯ হাজার দর্শক বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান।

পোর্তোর সভাপতি ভিয়াস বোয়াস পরে গর্বের সঙ্গে বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম সবাইকে চমকে দিতে। আধুনিক ফুটবলে এই ধরনের চমক আর সম্ভব নয় বলে অনেকেই ভেবেছিলেন। কিন্তু আমরা তা প্রমাণ করেছি।”

আধুনিক ফুটবলের তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর দলবদলের যুগে এটি নিঃসন্দেহে এক বিরল ঘটনা, যেখানে সাংবাদিকরা নয়, সমর্থকরাই আগে সরাসরি সাক্ষী হলেন এক বড় ট্রান্সফারের। পোর্তোর এই আয়োজন শুধু সমর্থকদের আনন্দ দিয়েছে তাই নয়, ইউরোপীয় ফুটবলে আবারও রহস্য ও চমকের জায়গা ফিরিয়ে এনেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত