রুমিন ফারহানার অনুসারীদের মহাসড়ক অবরোধ ও এনসিপির বিক্ষোভে উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪৭ বার

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ‘ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচন কমিশনে আসন পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত শুনানিকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে সংঘর্ষ, মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘটনায় পুরো এলাকা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। রবিবার দুপুরে ঢাকার নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুনানিতে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনার পরদিন বিকাল থেকেই এর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় মাঠপর্যায়ে। বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তাঁর অনুসারীরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন, অন্যদিকে এনসিপি নিজেদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য ও সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন মাস্টার এবং শাহবাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমান মুন্সি। অবরোধকারীরা মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। এতে মহাসড়কের দু’পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরে সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোশারফ হোসাইন, সরাইল থানার ওসি মোরশেদুল আলম চৌধুরী এবং হাইওয়ে থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমের হস্তক্ষেপে অবরোধ প্রত্যাহার ঘোষণা করা হয়।

অবরোধ শেষে আনোয়ার হোসেন মাস্টার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নয়, তিনি জাতীয় নেত্রী। ঢাকায় তাঁর ওপর হামলার প্রতিবাদেই আমরা এই কর্মসূচি দিয়েছি। তবে প্রশাসনের অনুরোধে আজকের মতো সরে এলাম। যারা এই হামলায় জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে, নইলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, অতীতেও এই তিনটি ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং রুমিন ফারহানার দেওয়া মতামতের প্রতি তাঁর সমর্থন রয়েছে।

অন্যদিকে এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে সন্ধ্যায় বিক্ষোভ সমাবেশ করে দলটির স্থানীয় নেতারা। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়ক সাহিল আহমেদ, সদস্য আসাদুজ্জামান, দ্বীন ইয়ামিন, আরিফ বিল্লাহ হাফেজী, কসবার যুগ্ম সমন্বয়ক মামুন বাতেন, আশুগঞ্জের সমন্বয়ক মো. ডালিম, নবীনগরের আলমগীর হোসেনসহ আরও অনেকে। সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার সভাপতি গাজী নিয়াজুল করিমও যোগ দেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ইসিতে শুনানির সময় বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানার অনুসারীরা আতাউল্লাহ ও অন্যদের ওপর হামলা চালায়। আতাউল্লাহর পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলা হয়, তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়, অথচ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও কোনো ব্যবস্থা নেননি। এ সময় তাঁরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানান।

পুরো ঘটনাকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আসন পুনর্নির্ধারণের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রকাশ্য সংঘর্ষ এবং সড়ক অবরোধ দেশের নির্বাচনী পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ দুই পক্ষের অভিযোগেই কমিশনের নীরব অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত