ইয়েমেনের সানায় ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত ৬, আহত অন্তত ৮৬

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ২৯ বার

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ‘ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং কমপক্ষে ছিয়াশি জন আহত হয়েছেন। রোববার রাতের এই হামলায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর থেকে সানায় ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং আহতদের বেশিরভাগকেই রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার বিষয়ে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী জানিয়েছে, গাজায় চলমান নৃশংসতা এবং ইসরাইলি অবরোধ বন্ধে চাপ সৃষ্টি করার জন্য তারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালাতে থাকবে। হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্র দুই দিন পরই ইসরাইল এই বিমান হামলা চালায়, যা উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। হুথিদের এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, তারা নিজেদের প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবেই ইসরাইলকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে এবং এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ইয়েমেন থেকে ইসরাইল এবং এর নাগরিকদের ওপর ক্রমাগত হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল হুথিদের সামরিক অবকাঠামো। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে অবস্থিত সামরিক স্থাপনা, আসার ও হিজাজ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জ্বালানি সংরক্ষণের গুদাম ধ্বংস করা হয়েছে। ইসরাইলের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল কেএএন জানিয়েছে, এই হামলায় ১৪টি যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এবং লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করা হয়।

হামলার পর সানায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ভবনগুলো থেকে হতাহতদের উদ্ধার অভিযান চলতে থাকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহ আংশিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং জ্বালানি মজুত স্থানে আগুন জ্বলতে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে।

এই হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, ইসরাইল ও হুথিদের পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী সানার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বোমা বর্ষণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে তারা মন্তব্য করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইল ও হুথিদের এই সংঘাত কেবল ইয়েমেন নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। ইতোমধ্যেই লোহিত সাগর ও আশপাশের অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, দ্রুত আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ না ঘটলে এই সংঘাত আরও প্রসারিত হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত