লাশ নিয়ে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ, বিচার দাবিতে উত্তাল রামগঞ্জ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ২৯ বার

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ‘২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিপন আহমদ (৩০) নামের এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দাফনের আগে এলাকাবাসী লাশ নিয়ে সড়কে বিক্ষোভে নামেন এবং এ ঘটনার জন্য দায়ী প্রবাসী আলম ও তার পরিবারের শাস্তি দাবি করেন। শিপনের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও শোকের মিশ্র আবহ তৈরি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২০ আগস্ট, যখন রামগঞ্জ পৌরসভার কাজিরখিল ওয়ার্ডের বালুয়া চৌমুহনী বাজার সংলগ্ন প্রবাসী আলমের বাড়িতে কাজ করার সময় শিপন উচ্চ ভোল্টেজ বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাড়ির ছাদের ওপর মাত্র এক হাত দূরত্বে ১১ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক লাইন ছিল। এ অবস্থাতেই শিপনকে কাজ করানো হয় এবং একপর্যায়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে রামগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ আগস্ট রাতে বিএনকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শিপনের গ্রামের বাড়ি পৌরসভার জগতপুরে। তিনি মৃত মনতাজ আহমদের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি এক সন্তানের জনক ছিলেন এবং তার স্ত্রী মিতু আক্তার আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শোকাহত স্বজনরা তা দাফন না করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা দাবি করেন, দোকান মালিক প্রবাসী আলম ও তার স্ত্রী লিপি শিপনকে জোরপূর্বক ওই ছাদে কাজ করতে বাধ্য করেছিলেন। শিপন বালুয়া চৌমুহনী বাজারে আলমের একটি দোকান ভাড়া নিয়ে স্টেশনারি ব্যবসা করতেন। কিন্তু সম্প্রতি দোকান ছাড়ার জন্য আলমের পক্ষ থেকে চাপ ও হুমকি আসছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এরই ধারাবাহিকতায় তাকে জোর করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কাজ করতে বাধ্য করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শিপনের স্ত্রী মিতু আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামীকে জোর করে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। আমার ছোট সন্তান আছে, আমি আবার অন্তঃসত্ত্বা। এখন আমি কীভাবে বাঁচবো?” তার এই আর্তনাদ এলাকাবাসীর ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তোলে।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা প্রবাসী আলম ও তার স্ত্রীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। তারা জানান, একটি দোকান দখলের বিরোধে একজন তরুণ পিতা প্রাণ হারালেন, অথচ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যাচ্ছে।

রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বারী জানান, ঘটনাটি তারা জেনেছেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

শিপনের মৃত্যু শুধু তার পরিবারকেই নয়, পুরো এলাকাকেই নাড়িয়ে দিয়েছে। দাফন বিলম্বিত রেখে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষজনের দাবি, এই ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হবে। বর্তমানে শিপনের পরিবার মানবেতর অবস্থার মধ্যে রয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনবে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়াবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত