ডিবিএর চিঠিতেই সীমাবদ্ধ, সিডিবিএল তালিকাভুক্তির উদ্যোগ থমকে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫
  • ৮৭ বার
ডিবিএর চিঠিতেই সীমাবদ্ধ, সিডিবিএল তালিকাভুক্তির উদ্যোগ থমকে

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি নিয়ে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিডিবিএল) ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও কার্যত কোনো অগ্রগতি হয়নি। গত ২৭ মে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও পুঁজিবাজার উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ড. আনিসুজ্জামানের কাছে একটি চিঠি দিয়ে সিডিবিএলকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার অনুরোধ জানায়। প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও সেই চিঠির বাইরে কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আবারও থমকে আছে।

সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আবদুল মোতালেব বলেন, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সরকার কিংবা নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে তালিকাভুক্তি বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা বা আলোচনার উদ্যোগ পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, সরকার বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা নির্দেশ দিলে বিষয়টি পর্ষদে তোলা হতে পারে। অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কিছু কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যদিও সিডিবিএল একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি, তবে এর আইনে শেয়ার ধারণে বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কতটুকু শেয়ার রাখতে পারবে সে বিষয়ে সীমাবদ্ধতা থাকায় তালিকাভুক্তি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ায় এর সংবেদনশীলতা নিয়েও আপত্তি রয়েছে।

ইতিহাসে দেখা যায়, ২০০৯ সালেও সিডিবিএলের শেয়ার ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সে উদ্যোগ ডিএসইর আপত্তির মুখে থেমে যায়। ডিএসইর যুক্তি ছিল, পুঁজিবাজারের কাস্টডিয়ান হিসেবে সিডিবিএল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কারণে প্রতিষ্ঠানটি কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে সমস্যায় পড়লে তা পুরো শেয়ারবাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

ডিএসইর বর্তমান পরিচালক ও সিডিবিএলের পর্ষদ সদস্য শাকিল রিজভী জানান, বিশ্বের অনেক দেশে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট কোম্পানির তালিকাভুক্তির নজির আছে আবার না থাকারও উদাহরণ আছে। ফলে সিডিবিএলের তালিকাভুক্তিতে তাত্ত্বিকভাবে কোনো বাধা নেই। তবে এ নিয়ে পর্ষদে এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। ডিবিএ যে চিঠি দিয়েছে সেটি সরাসরি সিডিবিএলের কাছে আসেনি বলে তিনি জানান।

ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, সিডিবিএল তালিকাভুক্ত হলে এটি শুধু বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে না, বরং প্রতিষ্ঠানটির মুনাফার অংশীদার হওয়ার সুযোগও সাধারণ মানুষ পাবে। তার মতে, বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে শেয়ারবাজারে আনার চেষ্টা করা হলেও দেশীয় একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত না করা অযৌক্তিক। আইনি জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন মানুষই তৈরি করে, তাই প্রয়োজনে সংশোধনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

অন্যদিকে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী ভিন্ন মত প্রকাশ করে বলেন, শেয়ারবাজারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকাভুক্ত হওয়া উচিত নয়। কারণ সিডিবিএল প্রতিটি বিও অ্যাকাউন্ট ও শেয়ার লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ করে। এটি তালিকাভুক্ত হলে বোর্ডকে বিভিন্ন প্রশ্ন ও জটিলতার মুখোমুখি হতে হতে পারে, যা বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত সিডিবিএলের মূল কাজ হলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের তথ্য ও হিসাব সংরক্ষণ করা। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক মডেল ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় তালিকাভুক্তির দাবি থাকলেও প্রায় দেড় দশক ধরে বিষয়টি নানামুখী বিতর্ক ও সংশয়ের কারণে ঝুলে আছে। ফলে ডিবিএর সাম্প্রতিক চিঠির মধ্য দিয়েও সিডিবিএলের তালিকাভুক্তি বাস্তবায়নে নতুন কোনো গতি আসেনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত