ফুলবাড়ী দিবসে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি, চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫
  • ১০৪ বার
ফুলবাড়ী দিবসে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি, চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান

২৬ আগস্ট ২০২৫|  নিজস্ব সংবাদদাতা| একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী গণ–আন্দোলনের ১৯তম বার্ষিকীতে, আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট ২০২৫) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং ‘ফুলবাড়ী চুক্তি’র পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে আয়োজন করা হয় পুষ্পস্তবক অর্পণ। এই কর্মসূচির আয়োজন করেছিল তেল–গ্যাস–খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ–বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন, এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ নির্বাচন প্রচারণার প্রার্থীরাও অংশগ্রহণ করেছিলেন।

শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়, এবং এতে বক্তৃতা করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, ফুলবাড়ীতে করা চুক্তিটি ছিল শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়; এটি ছিল জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের অঙ্গীকার। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকারের সময় হলেও চুক্তি হয়েছিল, কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তা বাস্তবায়ন করেনি। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের আগমনকে কিছু মানুষ দারুণ প্রতিশ্রুতি মনে করেছিলেন, তাও তারা পদক্ষেপ নেনি; বরং বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে ও দেশের প্রকৃতি ও সম্পদে সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা না দেখিয়ে জনগণের স্বার্থকে উপেক্ষা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, ১৯ বছর পেরিয়েও সেই ছয় দফা চুক্তির সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি—এটি শহীদদের প্রতি অবমাননাকর। যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, তারা অবশ্যই চুক্তি বাস্তবায়নের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করুক। গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু বলেন, যদিও বিএনপির সময়ে করা চুক্তি হলেও আওয়ামী লীগের সমর্থন ছিল, তারা ক্ষমতায় এসে বাস্তবায়ন না করে বরং দমননীতি গ্রহণ করেছে এবং জনগণের স্বার্থোপেক্ষা করে দেশবিরোধী চুক্তি ও অবস্থান নিয়েছে।

মূল ঘটনাটি ২০০৬ সালের ২৬ আগস্টের। দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে জনপদ, পরিবেশ ও জমিকে রক্ষা করার দাবিতে অনিরাপদ উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের প্রতিবাদে অসংখ্য মানুষ একত্রিত হন। আন্দোলনক্রমে তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে তরিকুল, আমিন ও সালেকিন নামে তিন জন শহীদ হন। এরপর আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

এই গণ-সংগ্রামের পর ২০০৬ সালের ৩০ আগস্ট সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছয় দফা চুক্তি করতে বাধ্য হয়। চুক্তির মধ্যে ছিল—উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন বন্ধ ও এশিয়া এনার্জিকে বহিষ্কার করা।

তারপর থেকে প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গেলেও চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকার শুধু প্রতিশ্রুতিই দিয়েছে, কিন্তু কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। এর ফলে প্রতিবছর ২৬ আগস্ট ‘ফুলবাড়ী দিবস’ হিসেবে পালন করা হয় এবং শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি চুক্তির বাস্তবায়নের দাবি নতুন করে উচ্চারিত হয়।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত