২৬ আগস্ট ২০২৫| নিজস্ব সংবাদদাতা| একটি বাংলাদেশ অনলাইন
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এখন একটি নতুন পরিবর্তনের মুখোমুখি। সরকারের কার্যক্রমের কারণে দেশ যথেষ্ট স্থিতিশীল এবং আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে প্রস্তুত। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে ক্ষমতার হস্তান্তরের পথ সুগম করবে।
এই মন্তব্য তিনি করেছেন কক্সবাজারে রোহিঙ্গা অংশীজন সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। তিনদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সংলাপের ‘স্টেকহোল্ডার্স ডায়ালগ: টেকঅ্যাওয়ে টু দ্য হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্য রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’ আয়োজন করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রোহিঙ্গা ইস্যু বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের দপ্তর। এতে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে সক্রিয় অন্তত ৪০টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। সংলাপের প্রথম দিনে রোহিঙ্গারা সরাসরি বিদেশি অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করে নিজেদের অভিজ্ঞতা, নির্যাতনের কাহিনী ও প্রত্যাবাসনের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরেন।
ড. ইউনূস রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য সাতদফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন এবং আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানান। তাঁর প্রস্তাবে রয়েছে দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের রোডম্যাপ প্রণয়ন, দাতাদের সমর্থন নিশ্চিত করা, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আর্মিকে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আহ্বান, গঠনমূলক সংলাপ, আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যার বিচার ত্বরান্বিত করা এবং খাদ্য ও মানবিক সহায়তা জোরদার করা।
ড. ইউনূস বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়, তাদের স্বদেশ মিয়ানমার। আট বছর ধরে বাংলাদেশ মানবিক সহায়তা দিচ্ছে, কিন্তু সমস্যার মূল সমাধান হয়নি। তাই আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন, না হলে এই অঞ্চল দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।
রোহিঙ্গারা স্বদেশে নিরাপদ ও সম্মানের সঙ্গে ফিরতে চাচ্ছেন। উখিয়া ও টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে তারা নাগরিক অধিকারসহ প্রত্যাবাসনের দাবি তুলেছেন। বর্তমানে কক্সবাজারে ৩৩টি ক্যাম্পে ১৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে, যার মধ্যে ২০১৭ সালের আগস্টের পর নতুনভাবে আশ্রয় নেয় প্রায় ৮ লাখ। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত নতুনভাবে আরও দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।
ড. ইউনূসের এই মন্তব্য এবং আন্তর্জাতিক সংলাপের আয়োজন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি ও সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান হিসেবে গুরুত্ব বহন করছে।