৪৭৩ জনের এক চোখ নষ্ট, দুই চোখ হারিয়েছেন আরও ১১ জন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ১০০ বার
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চোখ হারানোদের সংখ্যা উদ্বেগজনক: চিকিৎসকের সাক্ষ্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ১১ জন দুই চোখের দৃষ্টি চিরতরে হারিয়েছেন। এ ছাড়া ৪৯৩ জন এক চোখের দৃষ্টি চিরতরে হারিয়েছেন। এই তথ্য আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া জবানবন্দিতে প্রকাশ করেন হাসপাতালটির রেটিনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক যাকিয়া সুলতানা।

গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় ২১তম সাক্ষী হিসেবে তিনি ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন। অপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

জবানবন্দিতে যাকিয়া সুলতানা বলেন, হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নেওয়া আহত ২৮ জন দুই চোখে গুরুতর দৃষ্টি স্বল্পতায় ভুগছেন। এ ছাড়া ৪৭ জন এক চোখে গুরুতর দৃষ্টি স্বল্পতায় ভুগছেন, এবং ৪৩ জন এক চোখে সাধারণ দৃষ্টি স্বল্পতায় ভুগছেন।

জবানবন্দির সময় তার পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনায় দেখা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় আহত ৮৬৪ জন মানুষ হাসপাতালটিতে ভর্তি ছিলেন। তিনি জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের অধিকাংশই মেটালিক পেলেটের আঘাতে আহত ছিলেন, কেউ কেউ রিয়েল বুলেটের আঘাতে ভুক্তভোগী হয়েছেন। আহত হওয়ার ধরন ছিল চোখের কর্নিয়া ছিদ্র হওয়া, চোখের সাদা অংশে ছিদ্র তৈরি হওয়া, চোখ ফেটে যাওয়া, রেটিনার ক্ষতি এবং চোখে রক্তক্ষরণ।

যাকিয়া সুলতানা জবানবন্দিতে বলেন, “এই ধরনের গুরুতর চোখের আঘাত সাধারণভাবে নয়, এটি প্রমাণ করে যে আন্দোলনের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল এমন সরঞ্জাম যা মানুষের জীবন ও স্বাভাবিক দৃষ্টি ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্যে বিশেষভাবে প্রণীত। আহতদের মধ্যে অনেকেই স্বাভাবিক জীবনযাপন করার জন্যে স্থায়ী চিকিৎসার প্রয়োজন বোধ করছেন।”

সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল এই ঘটনাটিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গৃহীত করার প্রচেষ্টা করছে। এছাড়া, এই জবানবন্দি দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও নাগরিক অধিকার রক্ষার ইতিহাসে গুরুতর মানবিক প্রভাবের চিত্রও তুলে ধরেছে।

হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে একাধিক রোগী এখনও সম্পূর্ণ চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন এবং চোখের স্থায়ী ক্ষতির কারণে দৈনন্দিন জীবনে স্বাভাবিক কাজকর্ম সম্পাদনে চরম অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এটি দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


আপনি চাইলে আমি এই সংবাদটিকে আরও বিস্তৃত ফিচার রিপোর্ট আকারে তৈরি করতে পারি, যাতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অন্য মানবতাবিরোধী আক্রমণ এবং আহতদের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও প্রভাবসহ আরও বিশ্লেষণাত্মক তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটি করলে প্রকাশনা আরও সমৃদ্ধ ও গভীর হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত