সিরিয়ায় নতুন করে ইসরাইলি হামলা, ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ পরিকল্পনায় উত্তেজনা বাড়ছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪১ বার
সিরিয়ায় নতুন করে ইসরাইলি হামলা, ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ পরিকল্পনায় উত্তেজনা বাড়ছে

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে ইসরাইলি সামরিক তৎপরতার কারণে। চলতি মাসের শুরুর দিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন যে তার সরকার “বৃহত্তর ইসরাইল” গঠনের পরিকল্পনা করছে। এ ঘোষণার পরপরই ৩১টি আরব ও ইসলামি দেশ এবং আরব লীগ যৌথভাবে এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর অবস্থানকে আন্তর্জাতিক আইন ও স্থিতিশীল আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূলনীতির সুস্পষ্ট ও বিপজ্জনক লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানায়। তাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই নস্যাৎ করবে না, বরং নতুন করে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে।

এ প্রেক্ষাপটেই সিরিয়ার অভ্যন্তরে ইসরাইলি সামরিক অভিযান আবারও বিশ্ব দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সর্বশেষ হামলা চালানো হয়েছে দ্রুজ অধ্যুষিত দক্ষিণাঞ্চলীয় সুওয়াইদা প্রদেশে, যেখানে জুলাই মাসে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় এক হাজার চারশ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ফলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও, ইসরাইল দাবি করছে যে তারা দ্রুজ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সীমান্ত পেরিয়ে সিরিয়ার সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করছে।

তবে বাস্তবে ইসরাইলি হামলার লক্ষ্য ছিল শুধু সুওয়াইদা নয়, বরং রাজধানী দামেস্কের প্রাণকেন্দ্রও। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ইসরাইলি বিমান দামেস্কে একাধিক স্থাপনায় বোমা বর্ষণ করেছে, যেগুলো সিরিয়ার সামরিক ও নিরাপত্তা অবকাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেলেও সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলের এই পদক্ষেপ সরাসরি তাদের ঘোষিত “বৃহত্তর ইসরাইল” পরিকল্পনার অংশ। সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা দুর্বল করা এবং অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে বাড়িয়ে তোলা ইসরাইলি কৌশলের অন্যতম প্রধান দিক বলে মনে করছেন তারা। অন্যদিকে সিরিয়ার সরকার এই হামলাকে আগ্রাসন হিসেবে আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।

এদিকে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ হামলার পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, সিরিয়ায় নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা শুধু দেশটিকে নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যকেই অস্থিতিশীল করে তুলবে। বিশেষ করে লেবানন, ইরাক ও জর্ডানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে সহিংসতার শঙ্কা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

বিশ্ব রাজনীতির এই নাজুক সময়ে ইসরাইলের এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ এবং নেতানিয়াহুর “বৃহত্তর ইসরাইল” ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যকে একটি নতুন সংঘাতমুখী অধ্যায়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয় এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। নতুবা, এ হামলা সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে দিয়ে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পথ খুলে দিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত