প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা ।একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তে ভারত থেকে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষদের অনুপ্রবেশের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দালালদের মাধ্যমে সীমান্তের ১৩০২ মেইন পিলারের পার্শ্ববর্তী বাঘছড়া এলাকা দিয়ে সোমবার ছয় রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। স্থানীয়রা এ সময় তাদের ভিডিও ধারণ করেছেন। তবে বিজিবি ও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুপ্রবেশের ঘটনা অস্বীকার করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের বাঘছড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে রোহিঙ্গারা প্রবেশের সময় দালাল হিসেবে কাজ করেছিল স্থানীয় কিছু বাসিন্দা। বিশেষ করে কামরাঙ্গীখেল দক্ষিণ গ্রামের মহিব মিয়ার ছেলে সুলেমান, নিশ্চিন্তপুরের নূর উদ্দিনের ছেলে সেলিম ও একই গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে আনোয়ার ওরফে আনর তাদেরকে বাঘছড়া এলাকার একটি জঙ্গলে নিয়ে আসে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনাটি লক্ষ্য করে জৈন্তাপুরের বাউরভাগ দক্ষিণ গ্রামের মো. আকবর আলীর ছেলে রোমান আহমদ ও আবদুল মতিনের ছেলে আবুলসহ কয়েকজন স্থানীয় ভিডিও ও ছবি ধারণ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, আনোয়ার ওরফে আনর রোহিঙ্গা নাগরিকদের সঙ্গে কথোপকথন করছেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে দালালরা তিন রোহিঙ্গা নাগরিককে দ্রুত ওই স্থান থেকে সরিয়ে ফেলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিজিবি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও শিশুসহ তিন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করেনি। তারা উল্লেখ করেন, জৈন্তাপুরের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে দালালদের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা নিয়মিতভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ ও প্রস্থান করছে।
এই বিষয়ে লালাখাল বিওপির কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি ক্যাম্পের বাইরে আছি, ক্যাম্পে ফিরে ঘটনাটি যাচাই করে অবগত করবো।” তবে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। বিজিবি ১৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার পিএসসির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ করা হয়নি।
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা মো. আকবর আলী জৈন্তাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সময় তার ছেলে রোমান আহমদ বাধা প্রদান ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে তার মেলামেশা ও মারামারি হয়। এ ঘটনায় রোমান আহমদের মোবাইল ফোন ও নগদ দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। আকবর আলী অভিযোগে আরও ১০-১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করেছেন।
জৈন্তাপুর থানার ওসি আবুল বাশার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, “রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। বিজিবি থেকে আমাদের এ ব্যাপারে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।”
এই ঘটনার ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ বিষয়ক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবপাচার ও অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।