ঝিনাইদহের সাবেক এমপি আনোয়ারুল হত্যা মামলার তদন্ত থমকে গেছে, রহস্যজনক সোনা চোরাচালানও অমীমাংসিত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ১১৫ বার
ঝিনাইদহের সাবেক এমপি আনোয়ারুল হত্যা মামলার তদন্ত থমকে গেছে, রহস্যজনক সোনা চোরাচালানও অমীমাংসিত

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৫। বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির অবস্থায় রয়েছে। একাধিক জটিলতার কারণে হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন তথ্য এখনো স্পষ্ট হয়নি, যার মধ্যে অন্যতম ভারতের কলকাতার ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়া না যাওয়া এবং দুই দেশের তথ্য আদানপ্রদানে অনিশ্চয়তা।

মামলার নতুন তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, ভারতের কলকাতা থেকে আনোয়ারুলের লাশের খণ্ডাংশের ডিএনএ প্রতিবেদন না আসায় তদন্ত যথাযথভাবে এগোচ্ছে না। এই মামলা প্রথমে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তদন্ত করছিল। গত ২৪ মে তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।

তৎকালীন সংসদ সদস্য আনোয়ারুল গত বছরের ১২ মে ভারতে নিখোঁজ হন। পরদিন, ১৩ মে, কলকাতার নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটে তাঁকে হত্যা করা হয়। আনোয়ারুলের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ২২ মে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার তদন্তে নিউটাউনের ফ্ল্যাটের সেপটিক ট্যাংক ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার একটি খাল থেকে মাংস এবং হাড়ের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়। মুমতারিন নভেম্বরে কলকাতায় গিয়েছিলেন এবং ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন। যদিও কলকাতার গণমাধ্যমে ডিএনএ মিলের খবর প্রকাশিত হয়েছে, আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন এখনও বাংলাদেশের তদন্ত সংস্থার হাতে আসেনি।

তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, ৫ আগস্ট গত বছরের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মামলাটি কার্যত স্থগিত হয়ে যায়। পরিবার এবং তদন্তকারীর মধ্যে যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া, চলমান কূটনৈতিক জটিলতার কারণে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদানও ব্যাহত হচ্ছে। এই কারণে মামলার দ্রুত সমাধান এখন সম্ভব হচ্ছে না।

উভয় দেশে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট নয়জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। ভারতে দুজন এবং বাংলাদেশে সাতজন। ভারতে আটক দুইজন হলেন জিহাদ হাওলাদার এবং সিয়াম হোসেন। বাংলাদেশের কারাগারে রয়েছেন একসময়কার চরমপন্থী নেতা শিমুল ভূঁইয়া, তাঁর ভাতিজা তানভীর ভূঁইয়া, সহযোগী শিলাস্তি রহমান, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ফয়সাল আলী, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম এবং একই কমিটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ। বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হওয়া সাইদুল ছাড়া অন্যরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ডিবি তদন্তকালে খুনের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে আনোয়ারুলের বন্ধু আক্তারুজ্জামান ওরফে শাহীনের নাম উঠে আসে। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, শিমুল ভূঁইয়া ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন। হত্যার পর সোনা চোরাচালানসহ ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের বিষয়টি দুই দেশের তদন্তে আলোচ্য হয়েছে। তবে তৎকালীন তদন্ত সংস্থা ডিবি আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি সামনে আনে নি।

বাংলাদেশে মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক খান মো. এরফান জানান, “ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণে আনোয়ারুল খুন হয়েছেন, তবে এটি সোনা চোরাচালান সম্পর্কিত কি না তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।” পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের প্রাথমিক অভিযোগপত্রেও হত্যার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়নি।

পরিবারের ক্ষোভও প্রকাশ পেয়েছে। দীর্ঘ সময়ের বেশি পার হয়ে গেলেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় তাঁরা উদ্বিগ্ন। পরিবার অভিযোগ করেছে, অন্তর্বর্তী সরকার মামলার গুরুত্ব ঠিক মতো দিচ্ছে না এবং আদালতে প্রতিবেদনের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তদন্তকারী সংস্থা রিপোর্ট জমা দিচ্ছে না।

আক্তারুজ্জামানকে ফেরানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। হত্যার ফ্ল্যাটটি তিনি ভাড়া করেছিলেন, খুনের ছক কষার পর দেশে ফেরেননি এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। ডিবি ও সিআইডি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। ইন্টারপোলের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এই মুহূর্তে আক্তারুজ্জামান কোথায় আছেন তা বাংলাদেশের কাছে স্পষ্ট নয়।

তদন্তের অগ্রগতি থেমে থাকার কারণে আনোয়ারুল হত্যা মামলার সঙ্গে সোনা চোরাচালানসহ অন্যান্য রহস্যজনক বিষয় এখনো অনূদ্ধ। উভয় দেশে গ্রেপ্তারকৃতদের জবানবন্দি এবং প্রমাণাদি এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে আদালতে উপস্থাপিত হয়নি, ফলে হত্যাকাণ্ডের পুরো চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত