প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ক্রিকেটের ইতিহাসে রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলা চলছেই। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে ব্যাট ও বলের দাপটে নতুন নতুন কিংবদন্তির জন্ম হয়েছে, এখনও হচ্ছে। শচীন টেন্ডুলকার ভারতীয় ক্রিকেটকে একাই রেকর্ডের অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিলেন। বাইশ গজের এই লড়াইয়ে অনেক তারকা নিজেদের আলোকবর্তিকা হিসেবে তুলে ধরেছেন। আর সেই ভিড়েই ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণ ক্রিকেটার ম্যাথু ব্রিটজকে। ওয়ানডে অভিষেকের পর থেকেই একের পর এক রেকর্ড গড়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, কেন তাকে ক্রিকেটবিশ্ব ইতিমধ্যেই ‘রেকর্ডম্যান’ বলে ডাকতে শুরু করেছে।
মাত্র চারটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেই ব্রিটজকে এমন সব কীর্তি গড়েছেন যা ৫০ বছরেরও বেশি ওয়ানডে ইতিহাসে আর কোনো ক্রিকেটারের পক্ষে সম্ভব হয়নি। চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের লাহোরে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেকেই ১৫০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। এর মধ্য দিয়েই ভাঙেন কিংবদন্তি ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটার ডেসমন্ড হেইন্সের রেকর্ড। ১৯৭৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেইন্স করেছিলেন ১৪৮ রান, যা ৪৭ বছর ধরে অভিষেকে সর্বোচ্চ ইনিংস হিসেবে টিকে ছিল। অভিষেক ম্যাচেই রেকর্ড ভাঙা এই তরুণ পরের ম্যাচেও থেমে থাকেননি। পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে খেলেন ৮৩ রানের ইনিংস। প্রথম দুই ওয়ানডেতে ২৩৩ রান করে ব্রিটজকে হয়ে যান ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার যিনি ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ইনিংসেই ২০০ রান অতিক্রম করেছেন। হেইন্সের আগের রেকর্ড ছিল ১৯৫ রান।
এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে আরও এক মাইলফলক স্পর্শ করেন ব্রিটজকে। প্রথম ম্যাচে ৫৭ রান করে প্রথম তিন ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচে খেলেন ৮৮ রানের অনবদ্য ইনিংস। এভাবেই ওয়ানডে ক্রিকেটের ৫৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম চার ইনিংসেই তিনি খেললেন পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস। সেই সঙ্গে প্রথম চার ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৭৮ রান সংগ্রহ করে রেকর্ডবুকে নিজের নাম লেখালেন, ভেঙে দিলেন সতীর্থ টেম্বা বাভুমার ২৮০ রানের পুরনো রেকর্ড।
অভিষেকের ঝলকই প্রমাণ করেছে, ব্রিটজকের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক অনন্য সম্ভাবনা। তবে তার এই সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই গ্রে হাই স্কুলের প্রথম দলে খেলে আলো কাড়েন তিনি। ১৬ বছর বয়সে ডাক পান দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। যুব ওয়ানডেতে ২৫ ম্যাচে করেন এক হাজার রান। ২০১৮ সালের যুব বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেছিলেন। এরপর ইমার্জিং দলে শ্রীলঙ্কা সফর এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে জাতীয় দলের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ২০২২-২৩ মৌসুমে ছিলেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। গড়ে ৬০.৫৮ রান করে হাঁকান তিনটি শতক ও চারটি অর্ধশতক। ২০২৪ সালের এসএ টোয়েন্টি লিগেও ছিলেন তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। এমন পারফরম্যান্সই ব্রিটজকেকে জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত করেছে। মাঠে চাপ সামলানোর তার দক্ষতাও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। জাতীয় দলের সতীর্থ এবং ডারবান সুপার জায়ান্টসের অধিনায়ক কেশভ মহারাজ তার মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করতে গিয়ে বলেন, “বিরাট কোহলির মতো একই মন-মানসিকতার প্রতিচ্ছবি ব্রিটজকে।”
কোহলি বহু আগেই বিশ্ব ক্রিকেটের রেকর্ড রাজা বনে গেছেন। এখন সেই সিংহাসনের দিকে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছেন ব্রিটজকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার যাত্রা শুরু মাত্র, কিন্তু ইতিমধ্যেই প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনি শুধু দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নন, বরং বিশ্ব ক্রিকেটেরও এক সম্ভাবনাময় রেকর্ডম্যান।