প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ ঘোষণা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪৯ বার
প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ ঘোষণা

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে। নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোটের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। এর আগে ১৮ ডিসেম্বর, ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন আয়োজনে কমিশনকে ৫৭ দিনের সময় দেওয়া হবে, যা প্রবাসী ভোটারদের সুবিধার্থে আরও ১০ দিন বাড়ানো হয়েছে। এই রোডম্যাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, প্রবাসী বাংলাদেশিরা শুধুমাত্র প্রতীক বরাদ্দের পরই ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

ইসির সূত্রমতে, নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত ধাপগুলো মোট ২০৭ পর্যায়ে সম্পন্ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ, ভোটার তালিকা প্রস্তুত, নির্বাচনি আইন ও বিধি সংস্কার, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, আসনসীমা নির্ধারণ, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নীতিমালা প্রণয়ন, নির্বাচনি উপকরণ প্রস্তুত ও বিতরণ, জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় এবং প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা নিশ্চিতকরণ। প্রতিটি ধাপ বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক হয়।

আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আট শ্রেণির অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ চালাবে কমিশন। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ২১ ধাপে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত হবে। ২০০৭ সালের ৩১ অক্টোবর বা তার আগে যাদের জন্ম হয়েছে, তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের আগে ভোটার তালিকার পর্যাপ্ত কপি প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

নির্বাচনি আইন-বিধি সংস্কারের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩১ আগস্ট আইন মন্ত্রণালয়ে খসড়া পাঠানো হবে এবং সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ তা চূড়ান্ত করা হবে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, আচরণবিধি এবং নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধনও সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংসদীয় আসনসীমা নির্ধারণের কাজ শেষ হবে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে।

ভোটকেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে আগামী ৫ অক্টোবর। পরে যাচাই-বাছাই শেষে ভোটগ্রহণের অন্তত ২৫ দিন আগে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে। নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা সংগ্রহ এবং প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াও চলমান থাকবে। মাঠ প্রশাসন, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে প্রথম বৈঠক হবে ২৫ সেপ্টেম্বর।

ভোটগ্রহণের জন্য ব্যবহৃত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সগুলো পুনরায় পরীক্ষার মাধ্যমে ব্যবহারোপযোগী করে তোলা হবে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। নির্বাচনি মালামাল যেমন পোস্টার, পরিচয়পত্র, নির্দেশিকা ও অন্যান্য উপকরণ নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি প্রস্তুত হবে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচনি দ্রব্যাদি সংগ্রহ ও বিতরণ শুরু হবে।

প্রবাসী ভোটারদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তাদের নিবন্ধন ও তালিকাভুক্তি সম্পন্ন করা হবে। এরপর ৫ জানুয়ারির মধ্যে ব্যালট পেপার বিদেশে পাঠানো হবে। নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে প্রবাসীদের ভোট দেশে ফেরত আনা হবে। একইসঙ্গে কারাবন্দিদের জন্য ভোটের দুই সপ্তাহ আগে পোস্টাল ব্যালট পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে।

রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে তফসিল ঘোষণার পর। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ইশতেহার প্রচার করা হবে। এছাড়া প্রতীক বরাদ্দের পর স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থীদের নিয়ে ভোটারদের সামনে ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হবে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়া জুড়ে স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি ধাপ নির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবায়িত হলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন কেবল একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত