ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত-লুটপাটের আদিঅন্ত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৮৬ বার
ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত -লুটপাটের আদিঅন্ত

প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান সীতাকুণ্ড শ্রাইন কমিটি ঘিরে এক চাঞ্চল্যকর বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দানকৃত সম্পদ, উপাসনালয় ও শতাধিক ধর্মীয় স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এ কমিটি জোরপূর্বক দখল করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষ।

সীতাকুণ্ড শ্রাইন কমিটির ইতিহাস এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের। ১৯১১ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রতিষ্ঠিত এ কমিটি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের আদেশে পরিচালিত হচ্ছিল। স্থানীয় প্রশাসক ও জজের তত্ত্বাবধানে থাকা এই কমিটি মূলত সীতাকুণ্ড, ফটিকছড়ি এবং কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত জমি, মঠ, আশ্রম ও মন্দিরগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করত। দীর্ঘদিন এটি স্থানীয় হিন্দু নেতাদের নেতৃত্বে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্ষমতার বলয়ে প্রবেশকারীদের আগ্রাসনে এর নিয়ন্ত্রণ চলে যায় বিতর্কিত ব্যক্তিদের হাতে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন নথি ও সাক্ষ্যে উঠে এসেছে, ২০২৩ সালের দিকে শ্রাইনের বিপুল সম্পত্তির দিকে নজর পড়ে স্থানীয় দুই সাংবাদিক সৌমিত্র চক্রবর্তী ও কৃষ্ণ চন্দ্র দাশের। তাদের সঙ্গে যোগ দেন অ্যাডভোকেট চন্দন দাশ। এ তিনজনের পরিকল্পনায় শ্যামল দত্তকে সম্পৃক্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় শ্যামল দত্ত প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহলকে ব্যবহার করে কমিটি দখলের উদ্যোগ নেন। এতে তাকে সহায়তা করেন সাবেক সংসদ সদস্য এসএম আল মামুন, জেলা জজ আজিজ আহমেদ ভূঁইয়া ও তৎকালীন চট্টগ্রামের ডিসি আবুল বাশার মুহাম্মদ ফখরুজ্জামান।

২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি একটি নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়, যেখানে সভাপতি হন শ্যামল দত্ত এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় অ্যাডভোকেট চন্দন দাশকে। সহসভাপতি পদে আসেন অপূর্ব ভট্টাচার্য ও তাপস রক্ষিত, যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান প্রণব কুমার দে ও সৌমিত্র চক্রবর্তী এবং সদস্য হন কৃষ্ণ দাশ। অভিযোগ অনুযায়ী, এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত অনেকেই বিতর্কিত, মামলার আসামি কিংবা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কর্মী ছিলেন। ফলে শ্রাইনের ঐতিহাসিক নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়।

স্থানীয় হিন্দু নেতারা দাবি করেছেন, নতুন কমিটি গঠন হওয়ার পর থেকে শ্রাইনের বিপুল সম্পত্তি, ব্যাংক হিসাব ও দানকৃত অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। সীতাকুণ্ড আস্তানবাড়ী এলাকায় গাছ বিক্রি করে ১৮ লাখ টাকারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যার কোনো হিসাব নেই। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের প্রায় দুই কোটি টাকা এবং কৃষি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকে জমা থাকা তিন কোটি টাকারও বেশি অর্থ তোলা হলেও সেসব অর্থের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। এছাড়া শিব চতুর্দশী মেলায় দেশ-বিদেশের লাখো ভক্তদের দান থেকে কোটি টাকার বেশি আয় হলেও সেই অর্থও ভোগদখল হয়েছে বলে অভিযোগ।

অভিযোগকারীরা বলছেন, একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে আর্থিক লুটপাট চালানো শুধু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত নয়, বরং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংসের সামিল। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এ নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং তারা স্বচ্ছ তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সীতাকুণ্ড শ্রাইন কমিটির এই বিতর্ক বর্তমানে সারাদেশেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষার জন্য রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধান থাকলেও কীভাবে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় এ ধরনের দখল ও লুটপাট সংঘটিত হলো। জনগণ ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতারা মনে করছেন, এ ঘটনায় যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হয়, তবে ভবিষ্যতে দেশের অন্য ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোও একই ধরনের আক্রমণের শিকার হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত