প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সাকিব আল হাসানের নাম সবসময়ই বিশেষভাবে উজ্জ্বল। বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে তিনি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে গড়েছিলেন এক বিরল রেকর্ড—প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ২০০০ রান ও ১০০ উইকেটের মালিকানা। দীর্ঘদিন ধরে এই অর্জনে তিনি ছিলেন এককভাবে অনন্য। তবে এবার সেই রেকর্ডে সঙ্গী পেলেন আফগানিস্তানের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে আফগানিস্তান জয় পায় ১৮ রানে। সেই ম্যাচে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন নবী। মাত্র ২০ রান খরচায় তিনি তুলে নেন ২ উইকেট। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০০ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছে যান তিনি। এর আগে আফগানিস্তানের হয়ে এই রেকর্ড গড়েছিলেন রশিদ খান, যিনি ইতিমধ্যেই ১৬৭ উইকেট সংগ্রহ করেছেন। ফলে নবী দেশের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে শত উইকেটের ক্লাবে নাম লেখালেন।
তবে শুধু বল হাতে নয়, ব্যাট হাতেও নবীর রয়েছে সমৃদ্ধ রেকর্ড। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার রান এখন পর্যন্ত ২২৪৬। সে হিসাবে ২০০০ রান এবং ১০০ উইকেটের যুগল মাইলফলকে পৌঁছে যাওয়া দ্বিতীয় ক্রিকেটার তিনি। এই বিরল কৃতিত্বের প্রথম মালিক ছিলেন সাকিব আল হাসান। ২০২২ সালে এই রেকর্ড গড়েন বাংলাদেশের তারকা, যিনি এখন পর্যন্ত ২৫৫১ রান ও ১৪৯ উইকেট সংগ্রহ করেছেন।
তবে এখানেই পার্থক্য হলো, সাকিব আল হাসান ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। তাই তার রেকর্ড আর এগোবে না। অন্যদিকে নবী এখনো খেলে যাচ্ছেন, এবং বয়স ৪০-এর ঘর ছুঁয়ে ফেললেও তার পারফরম্যান্স এখনো প্রশংসনীয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই তার প্রমাণ। ফলে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এভাবে চলতে থাকলে নবী আরও নতুন রেকর্ডের মালিক হবেন।
এই অর্জনের মাধ্যমে সাকিব ও নবী শুধু দুই দেশের ক্রিকেট ইতিহাসেই নয়, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অঙ্গনেও এক অনন্য অধ্যায় রচনা করলেন। ব্যাট ও বলের সমন্বয়ে বিরল রেকর্ড গড়া এই দুই অলরাউন্ডারকে ক্রিকেট বিশ্ব আরও দীর্ঘদিন স্মরণ করবে নিঃসন্দেহে