প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা ।একটি বাংলাদেশ অনলাইন
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বুধবার নিশ্চিত করেছেন, আদালত কর্তৃক ঘোষিত ফেরারি আসামিরা কোনো অবস্থাতেই আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইসি কমিশনার আরও বলেন, যারা সরকারি ৫০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং যারা লাভজনক পদে নিয়োজিত, তাদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি নেই। এই বিধান প্রার্থীদের স্বচ্ছতা ও নির্বাচনী জটিলতা কমানোর উদ্দেশ্যেই প্রণীত হয়েছে।
এছাড়া ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় নতুন পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবার থেকে জেলা প্রশাসক নয়, বরং জেলা নির্বাচন অফিসারই ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করবেন। এটি ভোট প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সহজলভ্য করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনী আচরণ ও দায়বদ্ধতার বিষয়ে কমিশনার সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, যদি কোনো নির্বাচিত প্রার্থীর দাখিলকৃত হলফনামার তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তাহলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল করা হবে। এছাড়া, সংসদ সদস্য প্রার্থীর জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রার্থী ও ভোট সম্পর্কিত আরও কিছু পরিবর্তনেও তিনি আলোকপাত করেছেন। এক্ষেত্রে দুই প্রার্থীর ভোট সংখ্যা সমান হলে লটারি নয়, পুনরায় ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনী পোস্টার ব্যবহার বাতিল করা হয়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়া ও এআই ব্যবহার করে আচরণবিধি ভঙ্গের কাজও করা যাবে না। একজন প্রার্থী ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা বা আসনপ্রতি সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা খরচ করতে পারবেন। এছাড়া মনোনয়নপত্র অনলাইনে দাখিলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞা প্রসঙ্গে ইসি কমিশনার বলেন, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে এবার থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আওতায় ধরা হবে। এটি নির্বাচনের সময় সকল পক্ষের জন্য সমান এবং কার্যকর আইন প্রণয়ন নিশ্চিত করার অংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নতুন নিয়ম ও বিধানগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দায়বদ্ধ ও শক্তিশালী করবে। প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ এবং নির্বাচনী আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি এক নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও মজবুত করবে।