এনআইডি সংশোধনে নতুন নীতিমালা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩৬ বার
এনআইডি সংশোধনে নতুন নীতিমালা

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) ভুলত্রুটি সংশোধন ও হারানো কার্ড পুনঃপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই মধ্যে একটি খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে মোবাইল ফোনের একটি নম্বর থেকে চারটির বেশি আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। একইসঙ্গে হারানো এনআইডি কার্ড তুলতে আর প্রয়োজন হবে না সাধারণ ডায়েরির (জিডি) কপি।

নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এনআইডি সংশোধনের নামে একটি অসাধু চক্র প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে কম্পিউটারের দোকান বা অননুমোদিত এজেন্টদের মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকদের মোবাইল নম্বর ব্যবহৃত না হয়ে অন্যের নম্বর ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে আবেদন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকৃত আবেদনকারী অবগত থাকেন না, অথচ মধ্যস্বত্বভোগীরা সেই তথ্যকে কাজে লাগিয়ে অর্থ আদায়ের সুযোগ পান। নতুন নীতিমালায় এই প্রতারণার পথ বন্ধ করতে একটি মোবাইল নম্বর থেকে সর্বোচ্চ চারটি আবেদন করার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। চারটির বেশি আবেদন হলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদনটি বাতিল করবে।

এ প্রসঙ্গে এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা এনআইডিতে নামের ছোটখাটো ভুল সংশোধন, জন্মতারিখের অসংগতি, ঠিকানা পরিবর্তন, হারানো কার্ড উত্তোলন এবং ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজ করতে কাজ করছি। মূল লক্ষ্য হলো প্রতারণা বন্ধ করা এবং জনগণকে ঝামেলা থেকে মুক্ত রাখা। এজন্য ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন’ নীতিতেই কাজ চলছে।”

তিনি আরও জানান, এতদিন এনআইডি হারানোর পর নতুন কার্ড তুলতে গেলে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে হতো। এতে নাগরিকদের ভোগান্তির শেষ ছিল না। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঝক্কি সামলাতে হতো। নতুন নীতিমালার আওতায় জিডির ঝামেলা ছাড়াই হারানো কার্ড সংগ্রহ করা যাবে।

ভোটার সেবা সহজীকরণে নির্বাচন কমিশন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) নীতিমালা তৈরি করছে। কমিশনের ধারণা, নীতিমালা কার্যকর হলে নাগরিকরা আরও স্বস্তিতে এনআইডি-সংক্রান্ত সেবা পাবেন এবং প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্যও বন্ধ হবে।

প্রযুক্তির যুগে এনআইডি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নথি। ব্যাংকিং, ভ্রমণ, সম্পত্তি লেনদেন থেকে শুরু করে নানা সরকারি-বেসরকারি সেবায় এনআইডির ভূমিকা অপরিসীম। ফলে এর নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা রাষ্ট্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা আশা করছেন, নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে শুধু দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণই নয়, বরং নাগরিকবান্ধব এনআইডি সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আপনি চাইলে আমি এই প্রতিবেদনটিতে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও যোগ করতে পারি—যেমন অন্যান্য দেশে জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবস্থায় কী ধরনের সীমাবদ্ধতা বা সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সেটা যুক্ত করলে প্রতিবেদনটি আরও সমৃদ্ধ হবে। চাইলে কি আমি সেটি যোগ করব?

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত