জাপানের অনিশ্চয়তা, বিকল্প অপারেটর খুঁজতে প্রস্তুত সরকার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫১ বার
জাপানের অনিশ্চয়তা, বিকল্প অপারেটর খুঁজতে প্রস্তুত সরকার

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনাল এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও শেষ হয়েছে, কিন্তু আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যিক পরিচালনা শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে কেবল অপারেটর চূড়ান্ত না হওয়ায়। এ দায়িত্ব পাওয়ার কথা ছিল জাপানের সুমিতোমো করপোরেশন নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়ামের, তবে আলোচনার শেষ মুহূর্তে তৈরি হওয়া জটিলতায় সবকিছু আটকে গেছে। এর মধ্যেই সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জাপানি কোম্পানি রাজি না হলে বিকল্প আন্তর্জাতিক অপারেটর খুঁজতে তারা প্রস্তুত।

রোববার দুপুরে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হয়। বৈঠকে বেবিচকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা মূলত ঘুরপাক খাচ্ছে রাজস্ব ভাগাভাগির প্রশ্নে। সরকার ও কনসোর্টিয়ামের মধ্যে কত শতাংশ রাজস্ব কে পাবে তা নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় সমঝোতা হচ্ছে না।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এ বিষয়ে বলেন, “আমরা জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছি। আগের অস্পষ্ট বিষয়গুলোও পরিষ্কার করেছি। এখন তারা চুক্তি মানলে ভালো, না মানলে আমরা বিকল্প অপারেটর খুঁজব। বাংলাদেশের স্বার্থ আমাদের কাছে সর্বাগ্রে।” তিনি আরও বলেন, দক্ষ আন্তর্জাতিক অপারেটরের হাতে টার্মিনাল গেলে সেবার মান ও ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে।

তৃতীয় টার্মিনাল নির্মিত হয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে। প্রায় ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটারের এই প্রকল্পে রয়েছে আধুনিক টার্মিনাল ভবন, যেটি বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮০ লাখ থেকে বেড়ে প্রায় দুই কোটি ৪০ লাখে উন্নীত করবে। কার্গো সুবিধাও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। টার্মিনালটি মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং হজ ক্যাম্পের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত, যা বিমান পরিবহন খাতে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তিটি মূলত পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে করা হয়েছিল। সুমিতোমো করপোরেশনের পাশাপাশি এ কনসোর্টিয়ামে আছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশন, সোজিতজ করপোরেশন এবং জাপানি সরকারি সংস্থা। তবে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে দুই বছরের জন্য গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব দেওয়ায় কনসোর্টিয়াম ক্ষুব্ধ হয়। তারা এখন পরিচালনায় অধিক নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব ভাগ বাড়ানোর দাবি তুলছে।

বিমান বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনায় দেরি হলে কেবল খরচই বাড়বে না, টার্মিনালে বসানো আধুনিক যন্ত্রপাতির কার্যকারিতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রকল্পের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে দ্রুত অপারেটর চূড়ান্ত করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পটি বাংলাদেশের বিমান খাতে সবচেয়ে বড় অবকাঠামোগত বিনিয়োগগুলোর একটি। ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটারের ফ্লোরস্পেস বিশিষ্ট এ টার্মিনালে রয়েছে ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজ, ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি ডিপারচার ইমিগ্রেশন ডেস্ক, ৫৯টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং তিনটি ভিআইপি ইমিগ্রেশন ডেস্ক। আন্তর্জাতিক মানের এই স্থাপনা ভবিষ্যতে ঢাকা বিমানবন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি আঞ্চলিক ‘হাব’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত