জাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৮১ বার
জাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ—জাকসু নির্বাচন। এরই মধ্যে নির্বাচনী আমেজে পুরো ক্যাম্পাস উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখরিত হয়ে উঠেছে আবাসিক হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অঙ্গন। তবে এমন সময় নির্বাচন স্থগিত করার দাবিতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে, যা এ আয়োজনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে।

সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করা হয়। তবে কোন যুক্তি ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে নির্বাচন স্থগিতের আবেদন করা হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল দীর্ঘদিন পর গণতান্ত্রিক চর্চার পুনর্জাগরণ ঘটবে, কিন্তু আদালতের এই প্রক্রিয়া নির্বাচনের সময়সূচি প্রভাবিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে জাকসু নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং অফিসার এ কে এম রাশিদুল আলম জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তার ভাষায়, “যেকোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে আমরা দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চাই। যাতে শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে কারও প্রশ্ন না থাকে।”

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর এই নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন হল এবং সাংগঠনিক শাখায় প্রার্থীরা প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। ক্যাম্পাসজুড়ে পোস্টার, ব্যানার আর শ্লোগানে সরগরম পরিবেশ শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন কেবল নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্ব তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। জাকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অনুশীলনের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম, যা সুশিক্ষা ও সহনশীল রাজনীতির ধারাকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে।

তবে রিটের কারণে নির্বাচন স্থগিত হলে এ দীর্ঘ প্রতীক্ষিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আবারও স্থবির হয়ে পড়বে কি না, তা এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, আদালত ও প্রশাসনের সিদ্ধান্ত এমন হবে যাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশেষে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসে এবং ছাত্র সমাজ তাদের বহু প্রতীক্ষিত অধিকার ফিরে পায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত