প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ভয়াল ঢেউ কেড়ে নিল জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের ভাতিজা মোহাম্মদ আহনাফের (পূর্ণ নাম জুহায়ের আয়মান) জীবন। মাত্র ১৭ বছর বয়সী এই তরুণ রোববার দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে নেমে সাগরে নিখোঁজ হওয়ার পর টানা ১৭ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহরের সমিতিপাড়া সৈকত এলাকায় আহনাফের লাশ ভেসে ওঠে।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে দায়িত্বরত সি-সেইফ লাইফগার্ডের মাঠ কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদ গণমাধ্যমকে লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে আহনাফ তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে গোসলে নামেন। সেই সময় হঠাৎ করেই সাগরের ভাটা ও জোয়ারের স্রোতে তারা সবাই তলিয়ে যেতে থাকেন। স্থানীয় সি-সেইফ টিম দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে অন্য দুইজনকে বাঁচাতে সক্ষম হলেও আহনাফ নিখোঁজ হয়ে যান।
খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস, সি-সেইফ লাইফগার্ড এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা রাতভর অভিযান চালান। তবে নিখোঁজ আহনাফের কোনো খোঁজ মেলেনি। অবশেষে সোমবার সকালে সমিতিপাড়া সৈকত এলাকায় তার নিথর দেহ ভেসে ওঠে। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য সাংবাদিকদের জানান, লাশ উদ্ধারের পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
আহনাফের বাড়ি বগুড়া জেলার পৌরসভার কাটনারপাড়া এলাকায়। তিনি মুশফিকুর রহিমের বড় ভাই মো. শরিফুল ইসলামের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে কক্সবাজারে পৌঁছেছেন। এ ঘটনায় পুরো পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজন শোকাভিভূত হয়ে পড়েছেন। পরিচিতজনরা বলছেন, মেধাবী ও প্রাণবন্ত আহনাফ পরিবারে সবার কাছে ছিল অত্যন্ত প্রিয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ভিড় জমালেও সাগরে নামার সময় পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয় না। অনেক ক্ষেত্রেই পর্যটকরা বিপজ্জনক জায়গায় চলে যান, যার ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। আহনাফের মৃত্যু সেই সতর্কবার্তাকে আরও জোরালো করল।
বাংলাদেশ ক্রিকেট অঙ্গন থেকেও এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। জাতীয় দলের কয়েকজন সতীর্থ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুশফিকুর রহিম ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে নিরাপত্তা জোরদার এবং পর্যটকদের সচেতন করার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অকালপ্রয়াত আহনাফকে আর ফেরানো যাবে না। তার মৃত্যু স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, প্রকৃতির সঙ্গে খেলা কখনোই নিরাপদ নয়।