তাহিরপুরে ৩৩ শিক্ষার্থীর ভর্তি ভবিষ্যত অনিশ্চিত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৯৯ বার
তাহিরপুরে ৩৩ শিক্ষার্থীর ভর্তি ভবিষ্যত অনিশ্চিত, অভিযোগ ফান্ড অবহেলার

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫। নিজস্ব প্রতিবেদক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ শাখার একাদশ শ্রেণিতে ৩৩ শিক্ষার্থীর ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিদ্যালয় ও কলেজ সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের এসএসসি ফল প্রকাশের পর কলেজ শাখায় ভর্তি আবেদন শুরু হলে কৃতকার্য শিক্ষার্থীরা অফিস সহকারী কৌশিক পালের মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন। কৌশিক পাল শিক্ষার্থীদের জানান, ভর্তি বিষয়ে তাদের কোনো চিন্তা করতে হবে না এবং সমস্ত দায় তিনি নিজে গ্রহণ করবেন। শিক্ষার্থীরা তার এই নিশ্চয়তায় স্বস্তি বোধ করে অপেক্ষা করতে থাকেন। প্রথম ধাপের ভর্তি আবেদন ৩০ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত, দ্বিতীয় ধাপ ২৩-২৫ আগস্ট এবং তৃতীয় ধাপ ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।

তবে তৃতীয় ধাপ শেষ হওয়ার পরও কোনো শিক্ষার্থীর মোবাইলে ভর্তি সংক্রান্ত কোনো বার্তা পৌঁছায়নি। বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানানো হলে তিনি খোঁজখবর নিতে গিয়ে জানেন, সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ৩৩ শিক্ষার্থীর নামে কোনো আবেদনই দাখিল হয়নি। ফলে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তাদের ভর্তি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এদিকে অভিযোগ আছে, গত পনের দিন ধরে অফিস সহকারী কৌশিক পাল শিক্ষার্থীদের আবেদন ফি এবং কলেজ ফান্ডের লক্ষাধিক টাকা নিয়ে উধাও রয়েছেন। ভর্তি প্রার্থী তাসমিয়া আক্তার তৃণা ও মোর্শেদা আক্তার আলো জানান, প্রত্যেকের কাছ থেকে ৭৫০ টাকা করে আবেদন ফি নেওয়া হয়, কিন্তু কোনো আবেদন জমা দেওয়ার নিশ্চয়তা তারা পাননি।

ছাত্র অভিভাবক ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মেহেদী হাসান উজ্জ্বল বলেন, “এ দায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এড়াতে পারেন না। উনার উচিত ছিল বিষয়টি তদারকি করা।”

অফিস সহকারী কৌশিক পাল বিষয়টি নিয়ে কোন সদোত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন। প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মাজাহারুল ইসলাম জানান, বিগত বছরও শিক্ষার্থীদের আবেদন তিনি অফিস সহকারী কৌশিক পালের মাধ্যমে সম্পন্ন করাতেন। এ ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীরা তার মাধ্যমে আবেদন করেছেন। তবে সম্প্রতি কলেজে কোনো ভর্তি সংক্রান্ত চিঠি না আসায় তিনি সিলেট বোর্ডে খোঁজ নিয়েছিলেন এবং জানতে পেরেছেন, ৩৩ শিক্ষার্থীর কোনো আবেদনই করা হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কলেজ সভাপতি মেহেদী হাসান মানিক বলেন, “আমি প্রথমবার এই বিষয়টি শুনলাম। বিষয়টি আমি খোঁজ নিচ্ছি।”

স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও ফান্ডের অনিয়ম দ্রুত সমাধান না হলে তাদের শিক্ষাজীবন প্রভাবিত হতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়বদ্ধভাবে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত