মঈন আলীর ভাগ্নের সেঞ্চুরিতে হেরে গেল বাংলাদেশ যুবারা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৮৬ বার
মঈন আলীর ভাগ্নের সেঞ্চুরিতে হেরে গেল বাংলাদেশ যুবারা

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল প্রথম ম্যাচে দারুণ জয়ের মধ্য দিয়ে ইংল্যান্ড সফর শুরু করলেও দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই সেই ধারা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ড সমতায় ফিরেছে সাবেক ইংলিশ অলরাউন্ডার মঈন আলীর ভাগ্নে ইসাক মোহাম্মদের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির সুবাদে। ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে নির্ধারিত ম্যাচে ২৩ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিকরা।

লাফবোরোয় বৃষ্টির কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে আসে ৫০ ওভার থেকে ৪৭ ওভারে। আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল শুরুটা বেশ ভালো করেছিল। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান রিজান হোসেন ব্যাট হাতে আবারও আলো ছড়ান। ৫৭ বল খেলে ৭ চার ও ১ ছক্কার সাহায্যে তিনি সংগ্রহ করেন ৫৭ রান। তার ইনিংস দলকে প্রতিযোগিতামূলক স্কোর গড়তে সাহায্য করে। ওপেনার রিফাতও খেলেন আক্রমণাত্মক ইনিংস। ৫ চার ও ৩ ছক্কার সাহায্যে তিনি ৫২ বলে করেন ৫১ রান। দলের অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিমও ভালো ভূমিকা রাখেন, ৪৪ বলে ৪১ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন। ইনিংসের শেষদিকে ১০ নম্বরে নামা ফাহাদ ২২ বলে অপরাজিত ২৫ রান করে দলের সংগ্রহ আরও এগিয়ে নেন।

সাক্ষরতার প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্ক

এই পারফরম্যান্সের সুবাদে বাংলাদেশ তাদের নির্ধারিত ৪৭ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ২৭২ রান। ইংল্যান্ডের হয়ে বল হাতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন মিন্টো, যিনি ৪৮ রানে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। এছাড়া লুমসডেন ও নেলসন শিকার করেন দুটি করে উইকেট।

তবে রান তাড়ায় নামা ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল আরও দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী। ওপেনার জোসেফ মুরস ৩৪ বলে ৪৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলকে এগিয়ে নেন। এরপর মঈন আলীর ভাগ্নে ইসাক মোহাম্মদ ব্যাট হাতে মাঠ কাঁপিয়ে দেন। ৯৫ বলে তার দুর্দান্ত ১০৪ রানের ইনিংসে ছিল ৯টি ছক্কা ও ৬টি চারের মার। তার এই ইনিংসই মূলত ম্যাচের ভাগ্য ঘুরিয়ে দেয়। প্রথম ম্যাচেও তিনি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছিলেন, তখন ৫৩ বলে করেছিলেন ৭৫ রান। অর্থাৎ সিরিজে ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত পারফর্ম করেই ইংল্যান্ড যুবারাদের ভরসার নাম হয়ে উঠেছেন ইসাক।

বাংলাদেশের হয়ে বাঁহাতি স্পিনার সামিউর বশির আবারও ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার। প্রথম ম্যাচে ৪ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচেও তিনি তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। ৩৫ রানে শিকার করেছেন ৩ উইকেট। এছাড়া আল-আমিন একটি উইকেট নেন। তবে দলের অন্য বোলাররা ইংলিশ ব্যাটারদের চাপে রাখতে ব্যর্থ হন। ফলে শেষ পর্যন্ত ডিএলএস পদ্ধতিতে নির্ধারিত ২৭১ রানের লক্ষ্য তারা ৪৩.১ ওভারেই ছুঁয়ে ফেলে, হাতে ছিল আরও ২৩ বল।

এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ এখন ১-১ সমতায় দাঁড়িয়েছে। প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া বাংলাদেশ যুবারা দ্বিতীয় ম্যাচে পরাজয়ের কারণে কিছুটা হতাশ হলেও এখনো সিরিজ জেতার সম্ভাবনা বেঁচে আছে। আগামী বুধবার ব্রিস্টলে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ। সেটিই নির্ধারণ করবে দুই দলের মধ্যে কে এগিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত সিরিজের ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেয়।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্সে আশার আলো থাকলেও বোলিং বিভাগে উন্নতির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইসাক মোহাম্মদের মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যানকে রুখতে কৌশলগত প্রস্তুতির ঘাটতি ধরা পড়েছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড যুবারা নিজেদের মাঠে জয় পেয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে, যা বাকি ম্যাচগুলোতে তাদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত