থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিনকে এক বছরের কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৪ বার
থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিনকে এক বছরের কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশ

প্রকাশ:০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে ঘিরে দেওয়া সর্বশেষ আদালতের রায়। সুপ্রিম কোর্টের এক ঐতিহাসিক রায়ে জানানো হয়েছে, ৭৬ বছর বয়সী এই নেতা অবশ্যই এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করবেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, তিনি অবৈধভাবে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে ছিলেন এবং সেই সময়কে কারাবাস হিসেবে গণ্য করা যাবে না। ফলে এখন তাকে প্রকৃত অর্থেই কারাগারে সাজা কাটতে হবে।

আজ মঙ্গলবার দেওয়া এই রায়ের পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, বিশেষ করে বিবিসি, বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন থাকসিনের মেয়ে পেতংতার্ন, যিনি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। রায়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন, এবং এই রায় পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

থাকসিন সিনাওয়াত্রার রাজনৈতিক জীবন বরাবরই নাটকীয়তায় ভরা। ২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি দীর্ঘ সময় নির্বাসনে কাটান, যার বড় অংশ তিনি কাটিয়েছেন দুবাইতে। ২০২৩ সালে তিনি থাইল্যান্ডে ফিরে আসেন, আর তখনই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আদালত তাকে প্রথমে আট বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে ক্ষমার আবেদনের প্রেক্ষিতে থাইল্যান্ডের রাজা তার সাজা কমিয়ে এক বছরে নামিয়ে আনেন।

তবে কারাদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর মাত্র একদিন কারাগারে কাটিয়েছিলেন তিনি। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার অজুহাতে তাকে দ্রুত স্থানান্তর করা হয় পুলিশ জেনারেল হাসপাতালের একটি বিলাসবহুল কক্ষে। সেখানেই তিনি প্রায় ছয় মাস অতিবাহিত করেন। এরপর প্যারোলের মাধ্যমে ব্যাংককের নিজ বাড়িতে ফেরেন। এই পুরো সময়কেই তিনি যেনো কারাদণ্ড হিসেবে গণ্য করতে চান, কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হাসপাতাল ও বাড়িতে কাটানো সময়কে কারাবাস হিসেবে ধরা হবে না।

থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক মহল এবং জনমনে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন ছিল—থাকসিনের হাসপাতাল স্থানান্তর কতটা বৈধ এবং তিনি সত্যিই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন কি না। সর্বশেষ এই রায়ে সেই বিতর্কেরও অবসান ঘটল। আদালত বলেছে, চিকিৎসার আড়ালে তিনি সুবিধাভোগ করেছেন, যা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

থাকসিন সিনাওয়াত্রা থাইল্যান্ডের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং বিতর্কিত নেতাদের একজন। তার নীতি ও নেতৃত্ব একদিকে দেশটির জনসমর্থন কুড়ালেও, অন্যদিকে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। সামরিক শাসনের শিকার হয়ে নির্বাসনে থাকা, দেশে ফিরে পুনরায় সাজা পাওয়া এবং এখন আবার কারাবাসে ফিরতে বাধ্য হওয়া—এই ঘটনাপ্রবাহ থাই রাজনীতির জটিলতা ও অস্থিতিশীলতার প্রতিচ্ছবি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় শুধু একটি ব্যক্তিকে ঘিরেই নয়, বরং থাইল্যান্ডের বিচার ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য একটি পরীক্ষার মুহূর্ত। দেশটির জনগণ এখন অপেক্ষা করছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কীভাবে কারাগারে ফিরে যান এবং এটি দেশের চলমান রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত