প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন ও তাঁর মা তাহমিনা বেগমকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। তাঁরা সড়ক অবরোধ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিক্ষোভ চালিয়ে যান এবং খুনিদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সোমবার সকালের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুলিশ প্রশাসনকে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হলেও এখনো তারা স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়ে গড়িমসি করছে। এ কারণে ক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, তাঁরা পরিষ্কারভাবে জানতে চান—আসলেই কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তার করে কবে আদালতের মুখোমুখি করা হবে।
বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত থেকে একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, তারা শুধু গ্রেপ্তারের আশ্বাস শুনে ঘরে ফিরতে চান না। প্রকৃত খুনি ও হত্যার পেছনের রহস্য যত দ্রুত সম্ভব উন্মোচন করতে হবে। শিক্ষার্থীরা স্লোগানে স্লোগানে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেন—“আমার বোন কবরে, খুনি কেন বাইরে”, “বিচার চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই”—এসব স্লোগানে চারপাশ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
এ সময় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বেলা দুইটা পর্যন্ত অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তদন্তের অগ্রগতি জানানো হবে। তবে শিক্ষার্থীরা তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তারা আন্দোলন আরও বিস্তৃত করবেন। নিহত সুমাইয়ার সহপাঠী নুরানি শেখ বলেন, “আমরা আমাদের সহপাঠীকে হারিয়েছি, কিন্তু পুলিশ বারবার টালবাহানা করছে। প্রয়োজনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ পুরো কুমিল্লা নগরকে অচল করে দেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, সোমবার সকালে কুমিল্লা নগরের কালিয়াজুরি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মা তাহমিনা বেগম ও মেয়ে সুমাইয়া আফরিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুমাইয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। মা–মেয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে সেখানে বসবাস করছিলেন। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যেই একজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁর কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচনে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।
কুমিল্লায় এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। তারা বলছেন, প্রতিশ্রুতির ভেলা নয়, তারা এখন কেবল দেখতে চান কঠোর আইনগত পদক্ষেপ ও খুনিদের শাস্তি। শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি কতদূর বিস্তৃত হবে এবং পুলিশের প্রতিশ্রুত অগ্রগতি কবে নাগাদ জনসম্মুখে আসবে, তা নিয়েই এখন কুমিল্লার শিক্ষাঙ্গন ও জনমনে তীব্র আলোচনার ঝড় বইছে।