পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় শেখ হাসিনার নামে লকারের সন্ধান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪২ বার
শেখ হাসিনার রায় নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যা চলছে

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে একটি ব্যাংক লকারের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনস্থ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সিআইসির মহাপরিচালক আহসান হাবিব বুধবার গণমাধ্যমকে জানান, লকারটির নম্বর ১২৮ এবং এটি খোলার জন্য শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের নামে ব্যাংক লকার ও সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য দেশের ৬৫টি ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। এতে নির্দেশনা দেওয়া হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নামে অনুমোদিত লকার, জমা বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদের তথ্য দ্রুত জানাতে হবে। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কয়েকটি ব্যাংক তথ্য পাঠায় এবং পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখার তথ্য বিশেষভাবে নজরে আসে। এরপর সিআইসি একটি অভিযানের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংক লকার খোলার জন্য দুটি পৃথক চাবির প্রয়োজন হয়। একটি থাকে গ্রাহকের কাছে এবং অন্যটি ব্যাংকের নির্ধারিত কর্মকর্তার কাছে। কোনো একক চাবি দিয়ে লকার খোলা বা বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ কারণে সিআইসির তত্ত্বাবধানে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় আনুষ্ঠানিকভাবে লকারটি খোলা হবে।

যদিও এখনো লকার খোলা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ধারণা করছে এর ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বা ব্যক্তিগত নথি, মূল্যবান অলঙ্কার, ধাতব সম্পদ কিংবা গোপন দলিল থাকতে পারে। বিভিন্ন গুঞ্জন রয়েছে, রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর নথি কিংবা আর্থিক লেনদেনের প্রমাণপত্রও এখানে সংরক্ষিত থাকতে পারে।

সাক্ষরতার প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্ক

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিআইসির এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তদন্ত কার্যক্রমের স্বার্থে আগেভাগে কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন বজায় রেখে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে পূবালী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ব্যাংক লকার গ্রাহকের ব্যক্তিগত সম্পদ সংরক্ষণের জায়গা। এ ধরনের অভিযানে ব্যাংক কেবলমাত্র আইনশৃঙ্খলা ও তদন্ত সংস্থার সহযোগিতা করবে। গ্রাহকের গোপনীয়তা ও আইনগত কাঠামো বজায় রেখেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শেখ হাসিনার নাম যুক্ত হওয়ায় বিষয়টিকে অনেকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। বিরোধী মহল মনে করছে, লকারে হয়তো রাষ্ট্রীয় গোপন নথি বা আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ মিলতে পারে। তবে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, এটি একটি নিয়মিত তদন্ত কার্যক্রমের অংশ এবং বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করা হলে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, লকার খোলার পর এর ভেতরের বিষয়বস্তু প্রকাশিত হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হতে পারে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলের মধ্যে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত