রাবি রাকসু নির্বাচনে সাবেক সমন্বয়কদের নেতৃত্বে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলের আত্মপ্রকাশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৬৭ বার
রাবি রাকসু নির্বাচনে সাবেক সমন্বয়কদের নেতৃত্বে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলের আত্মপ্রকাশ

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করলো সাবেক তিন সমন্বয়কের নেতৃত্বে ঘোষিত ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা এই তিন সাবেক সমন্বয়ক মেহেদী সজীব, সালাউদ্দিন আম্মার ও আকিল বিন তালেবকে যথাক্রমে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রার্থী করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে রাকসু ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে ১৮ সদস্যের এই পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করা হয়।

সাক্ষরতার প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্ক

ঘোষণার সময় জিএস প্রার্থী সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, তাঁদের লক্ষ্য হলো ক্যাম্পাসে দলীয় প্রভাব বা মতাদর্শিক আধিপত্যের বাইরে গিয়ে একটি স্বতন্ত্র ও মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। তিনি জানান, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রে যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠাই এই প্যানেলের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরাই নির্ধারণ করবেন আগামী দিনের ক্যাম্পাস কোন সংস্কৃতির ধারক হবে।

প্যানেলে ক্রীড়া সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. ইয়াসিন আরাফাত বিজয়, সহক্রীড়া সম্পাদক মো. মনজু আরিফ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মাহবুব আলম মোহন, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক হেমা আক্তার ইভা এবং সহমহিলা সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌসী তৃষা। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদে মনোনীত হয়েছেন মো. মিনহাজুর রহমান, মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক ফাহির আমিন, সহমিডিয়া সম্পাদক এম শামীম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. জাকির হোসেন। পাশাপাশি সহবিতর্ক সম্পাদক আরিয়ান আহমদ, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আহসান হাবিব এবং সহসমাজকল্যাণ সম্পাদক মোছা. ঈশিতা পারভীন তিথি লড়বেন। নির্বাহী সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সাজ্জাদ হোসাইন, মো. আরিফুল ইসলাম এবং হাবিব হিমেল। সিনেট প্রতিনিধি হিসেবে প্যানেল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন পাঁচজন—মেহেদী সজীব, সালাউদ্দিন আম্মার, আকিল বিন তালেব, মো. জাকির হোসেন ও আহসান হাবিব।

তবে এই প্যানেলকে নিয়ে ক্যাম্পাসে গুঞ্জন উঠেছে যে এটি ছাত্রশিবিরের ‘বি টিম’। এ বিষয়ে সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, তাঁরা কেবল যোগ্য প্রার্থীদের নিয়ে প্যানেল গঠন করেছেন এবং এসব অভিযোগ অমূলক। তিনি বলেন, এখানে যারা আছেন তারা সবাই ‘জুলাই যোদ্ধা’ এবং দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। যোগ্য প্রার্থী পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে প্যানেলে তাঁদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এজিএস প্রার্থী আকিল বিন তালেব। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যালট নম্বর বণ্টনে পক্ষপাতের ছাপ রয়েছে এবং ডোপ টেস্টের বিষয়ে কমিশনের অবস্থান অস্পষ্ট। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, কমিশন শেষ পর্যন্ত একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করবে।

প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীব বলেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন। তিনি বলেন, “আমরা জিতব কিংবা শিখব, কিন্তু দায়িত্ব থেকে পিছু হটব না।” তিনি উল্লেখ করেন, হলে প্যানেল না দিলেও তাঁদের সহযোদ্ধারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং তাঁদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

এর আগে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির আলাদাভাবে প্যানেল ঘোষণা করে। শিবির তাদের ঘোষিত প্যানেলে জিএস পদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক সাবেক সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি ফাহিম রেজাকে রেখে আলোচনায় আসে। পরদিন গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ ও রাকসু ফর র‍্যাডিক্যাল চেঞ্জ নামে আরও দুটি প্যানেল আত্মপ্রকাশ করে। ছাত্র ইউনিয়নের একাংশও মঙ্গলবার তাদের প্যানেল ঘোষণা করে। ফলে এখন পর্যন্ত রাকসু নির্বাচনে মোট ছয়টি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছে, যা প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল ও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

রাকসু নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর আয়োজিত এই নির্বাচনে বিভিন্ন মতাদর্শিক ও স্বাধীন প্যানেলের অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের ভোটের গুরুত্বকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। ক্যাম্পাসে এখন প্রত্যাশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতির গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত