প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির কুখ্যাত নাম হিসেবে পরিচিত মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। করোনাকালীন সময়ে সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আলোচিত এই ঠিকাদার দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন।
মিঠুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, করোনার সময় চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়, হাসপাতাল নির্মাণ এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। স্বাস্থ্য খাতে এমন ভয়াবহ দুর্নীতির ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। জনমনে ক্ষোভ তৈরি হলে ২০২০ সালের দিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান। সেখানেও তার আর্থিক অনিয়ম প্রকাশ্যে আসে। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার দেশটিতে থাকা মিঠুর প্রায় ৫০০ কোটি টাকার সমমূল্যের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে। এর পর দেশে ফিরে তিনি প্রথমে গ্রামের বাড়ি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর গ্রামে আত্মগোপন করেন।
চলতি মাসের শুরুতে মিঠু প্রকাশ্যে আসেন এবং রাজধানীর শ্যামলীতে তার মালিকানাধীন ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়মিত বসা শুরু করেন। এতদিন গ্রেপ্তার এড়িয়ে যেতে পারলেও অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেন তিনি।
মিঠুকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় থেমে নেই। স্বাস্থ্য খাতে তার প্রভাব বিস্তার, রাজনৈতিক সম্পর্ক ব্যবহার এবং প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে আঁতাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইনের নাগালের বাইরে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সম্প্রতি সরকারের ভেতরে ও বাইরে থেকে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠছিল।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, মিঠুর বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলার তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। তার কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারের পর তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে এবং শিগগিরই আদালতে তোলা হবে।
স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির প্রতীক হয়ে ওঠা মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর গ্রেপ্তারকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এতদিন তিনি প্রকাশ্যে থাকলেও কেন তাকে ধরা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গ্রেপ্তার যদি সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়, তবে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির চক্র ভাঙতে এটি হবে বড় একটি পদক্ষেপ।