মেসির পেনাল্টি মিসে বড় হার মায়ামির

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫৫ বার
মেসির পেনাল্টি মিসে বড় হার মায়ামির

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত সময় কাটিয়ে ক্লাবে ফিরেই অঘটনের শিকার হলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা জার্সিতে টানা সাফল্যের ধারায় থেকে আত্মবিশ্বাসী মেসি ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নেমেছিলেন নতুন উদ্যমে। তবে সেই প্রত্যাশা ভেস্তে গেল শার্লট এফসির বিপক্ষে ম্যাচে। পানেনকা স্টাইলে নেয়া পেনাল্টি শট প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক ক্রিশ্চিয়ান কাহলিনা দক্ষতার সঙ্গে ঠেকিয়ে দেন। সেই ব্যর্থতার খেসারত দিতে হলো মায়ামিকে। প্রতিপক্ষের তরুণ ফরোয়ার্ড ইদান তোকলোমাতির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলের লজ্জাজনক হার বরণ করতে হলো ডেভিড বেকহ্যামের মালিকানাধীন এই দলকে।

রোববার রাতে ব্যাংক অব আমেরিকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বল দখলে এগিয়ে থেকেও ফিনিশিংয়ের দিক থেকে একেবারেই পিছিয়ে পড়েছিল মেসির দল। পুরো ম্যাচে ৫৯ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রাখলেও কার্যকর কোনো আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি তারা। পরিসংখ্যান বলছে, মায়ামি মোট ১০টি শট নিলেও মাত্র চারটি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে শার্লট সমান সংখ্যক শট নিয়ে গোল পেয়েছে তিনবার। সেখানেই ধরা পড়ে দুই দলের পার্থক্য।

ম্যাচের শুরুতেই গোলের সুযোগ পেয়েছিল ইন্টার মায়ামি। ষষ্ঠ মিনিটে জর্ডি আলবার ক্রস ধরে লক্ষ্যভেদ করতে চেয়েছিলেন মেসি, কিন্তু গোলরক্ষক কাহলিনা ঠেকিয়ে দেন। আক্রমণাত্মক খেলতে থাকা মায়ামি ৩২ মিনিটে পায় সোনালী সুযোগ। বক্সের ভেতরে হ্যান্ডবলের কারণে পেনাল্টি পান মেসি। দর্শকসারিতে তখন নিস্তব্ধ উত্তেজনা। কিন্তু বিশ্বকাপজয়ী এই তারকার পানেনকা শট সহজেই অনুমান করে ফেলেন কাহলিনা। সেখানেই ম্যাচের গতি বদলে যায়।

পেনাল্টি মিসের পর যেন চাপে পড়ে যায় মায়ামি। তার মাত্র দুই মিনিট পর পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে যায় শার্লট। ৩৪ মিনিটে ইসরায়েলি তরুণ স্ট্রাইকার ইদান তোকলোমাতির নির্ভুল শটে গোল পায় স্বাগতিকরা। গোলের পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হাতছাড়া হয় মেসিদের কাছে।

দ্বিতীয়ার্ধেও দাপট দেখাতে থাকেন তোকলোমাতি। বিরতির পরপরই আবারও জালে বল জড়ান তিনি। একের পর এক আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে মায়ামির রক্ষণভাগ। ৮৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। এমএলএসে ১৯৯৮ সালের পর তিনিই প্রথম ২১ বছর বা তার কম বয়সী খেলোয়াড়, যিনি টানা সাত ম্যাচে সরাসরি গোলে অবদান রাখলেন। পরিসংখ্যানের বিচারে এটি এক রেকর্ডও বটে, যা তাকে এমএলএসের নতুন তারকা হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে।

অন্যদিকে, শার্লট এফসি এই জয়ের মাধ্যমে টানা নবম জয় তুলে নিল। যা তাদের ইতিহাসেরই নয়, বরং চলতি মৌসুমের অন্যতম উজ্জ্বল সাফল্য। বিপরীতে ইন্টার মায়ামি টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হারের মুখ দেখল এবং শেষ চার ম্যাচে তৃতীয়বার জয়শূন্য থাকল। এ হার তাদের পয়েন্ট তালিকায় অবস্থানও নড়বড়ে করে দিয়েছে।

মায়ামি শুরুর একাদশে ছিলেন না দলের আরেক বড় তারকা লুইস সুয়ারেজ। প্রতিপক্ষ দলের স্টাফকে থুতু দেয়ার ঘটনায় নিষেধাজ্ঞার কারণে বাইরে ছিলেন তিনি। সুয়ারেজকে ছাড়া মেসি ও তার সতীর্থরা চেষ্টা করলেও সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারেননি। বিশেষ করে আক্রমণভাগে সুয়ারেজের অভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। মেসি একা লড়াই করার চেষ্টা করেছেন, তবে তার গোল করার ব্যর্থতা ও দলের আক্রমণে সমন্বয়ের অভাব মায়ামিকে বিপর্যস্ত করেছে।

এই হারকে ঘিরে ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। অনেকের মতে, মায়ামির রক্ষণভাগে ধারাবাহিক দুর্বলতা এবং মাঝমাঠে কার্যকর কৌশলের অভাবই তাদের পরাজয়ের মূল কারণ। আবার কারও মতে, মেসির পেনাল্টি মিস ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। সেখানেই দলের আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই ম্যাচ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। মেসির সমালোচকরা বলছেন, তিনি জাতীয় দলে যতটা উজ্জ্বল, ক্লাবে ফিরেই বারবার হতাশ করছেন। ভক্তরা অবশ্য বলছেন, একজন খেলোয়াড় সব ম্যাচে একই ফর্ম বজায় রাখতে পারেন না, এমন ব্যর্থতা খেলারই অংশ।

মেসি নিজেও ম্যাচ শেষে হতাশার কথা স্বীকার করেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, “আমরা সুযোগ পেয়েছিলাম। বিশেষ করে প্রথমার্ধে গোল করতে পারলে ম্যাচ অন্যদিকে যেতে পারত। আমি দায়িত্ব নিতে চাই, কারণ পেনাল্টি আমি মিস করেছি। দল চেষ্টা করেছে, তবে আজ আমাদের দিন ছিল না।”

এই পরাজয়ের ফলে ইন্টার মায়ামির কোচ টাটা মার্টিনোও চাপের মুখে পড়েছেন। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে তার কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েও। সমর্থকদের আশা, সুয়ারেজের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে এবং দলের সমন্বয় ফিরে এলে মায়ামি আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। তবে সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে, কারণ আসন্ন ম্যাচগুলোতে তাদের মুখোমুখি হতে হবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের।

অন্যদিকে, শার্লট এফসির কোচ ও খেলোয়াড়রা এই জয়কে মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছেন। ইদান তোকলোমাতির উজ্জ্বল ফর্ম দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে। তার হ্যাটট্রিক শুধু তিন পয়েন্ট এনে দেয়নি, বরং শার্লটের আক্রমণভাগের শক্তিরও প্রমাণ দিয়েছে।

এই ম্যাচটি আবারও প্রমাণ করল, ফুটবলে নাম কিংবা খ্যাতিই সবকিছু নয়। মেসি ও মায়ামির মতো তারকাবহুল দলও পিছিয়ে যেতে পারে যদি মাঠে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারে। অন্যদিকে, উদীয়মান প্রতিভা তোকলোমাতির মতো খেলোয়াড়রা প্রমাণ করে দেন, যোগ্যতা ও দৃঢ়তায় ভর করে তারা জায়গা করে নিতে পারেন বিশ্বমঞ্চে।

মায়ামির জন্য এই হার নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। তবে সামনে এখনও মৌসুম বাকি আছে। মেসি ও তার সতীর্থরা যদি ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, তবে আবারও তারা শিরোপার দৌড়ে ফিরতে পারবেন। আর শার্লট এফসি এই জয়ের মাধ্যমে প্রমাণ করল, তারা শুধু প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে নয়, বরং চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়েও অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত