জামায়াত ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণ করেনি সংসদে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ৪২ বার
জামায়াত ডেপুটি স্পিকার পদ নেনি

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও দেখা গেছে, বিরোধী দল জামায়াত ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণ করেনি। সরকারি দলের পক্ষ থেকে জোট-বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল, কিন্তু কোনো প্রস্তাব না আসায় সরকারদলীয় সংসদ সদস্যের মধ্য থেকেই পদটি পূরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম স্পিকারের পদে নির্বাচিত হন। এরপর নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সংসদ অধিবেশন ৩০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হয়, যা সভাপতিত্ব করেন সংসদ সভাপতি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

জামায়াতের পক্ষ থেকে আগে থেকেই বলা হয়েছিল যে তারা ডেপুটি স্পিকার পদটি গ্রহণ করবে না। তারা অভিযোগ করে, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। এ বিষয়ে জামায়াতের আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, ‘জুলাই সনদে স্পষ্ট বলা আছে যে একজন ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবেন। আমরা খণ্ডিতভাবে এটি চাই না। আমরা চাই পুরো প্যাকেজ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন হোক, যেন আমাদের ন্যায্য দায়িত্ব পালনে বাধা না থাকে।’

জামায়াতের অবস্থান অনুযায়ী, তারা শুধু পদ নয়, বরং সংবিধান ও নিয়ম অনুযায়ী তাদের ন্যায্য অংশ গ্রহণের বিষয় নিশ্চিত করতে চায়। তারা মনে করে, একতরফাভাবে ডেপুটি স্পিকারের পদ গ্রহণ করলে তাদের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ভূমিকা পূর্ণভাবে পালন করা সম্ভব হবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই পদত্যাগ ও অগ্রহণের ঘটনা সংসদের বিরোধীদলীয় কার্যক্রমে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ডেপুটি স্পিকার পদটি বিরোধী দলের জন্য সংবিধানগতভাবে নির্ধারিত হলেও বাস্তবে তা সরকারদল নিয়ন্ত্রণে গেলে সংসদীয় ভারসাম্য ও কার্যক্রমের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষত, বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংসদীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

এদিকে, প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে সংসদে বিভিন্ন নিয়ম ও কার্যপ্রণালীর ওপর আলোচনা করা হয়। বিরোধী দল জামায়াত এই প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ায় সংসদের রাজনৈতিক ভারসাম্য ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রভাবিত হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

সংবিধান ও সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, ডেপুটি স্পিকারের পদ সাধারণত বিরোধী দলের প্রতিনিধির মধ্যে থাকা বাধ্যতামূলক হলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলীয় অবস্থান অনুসারে এটি প্রয়োগে ব্যত্যয় ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জামায়াতের পদ নেবার ক্ষেত্রে আপত্তি তাদের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক কৌশল ও নীতির অংশ হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে সরকারদল এখন এককভাবে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছে। এতে সংসদীয় কার্যক্রমে কার্যকরী নিয়ন্ত্রণ সহজ হলেও বিরোধী দলের সাংবিধানিক ভূমিকা হ্রাস পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী সময় সংসদে বিরোধী দলের কার্যক্রমে এই বিষয়টি আলোচিত হবে এবং রাজনৈতিক মিটিং ও আলোচনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিরোধী দলের ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণ না করায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আগামী অধিবেশনে এই বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনা ও রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com