হালান্ডের জোড়া গোলে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার সিটির দাপুটে জয়

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৮৫ বার
হালান্ডের জোড়া গোলে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার সিটির দাপুটে জয়

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ নিজস্ব সংবাদদাতা  | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ম্যানচেস্টার সিটি আবারও প্রমাণ করল কেন তারা আধুনিক ফুটবলের অপ্রতিরোধ্য শক্তি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলোর একটি, ম্যানচেস্টার ডার্বি, রবিবার রাতে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্বাগতিক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। ম্যাচের মূল নায়ক ছিলেন আর্লিং হালান্ড, যিনি দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করে দলের দাপুটে জয়ে ভূমিকা রাখেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠে আধিপত্য বিস্তার করে সিটি। বল দখল ও পাস বিনিময়ে প্রতিপক্ষকে একপ্রকার দম বন্ধ করে রাখে তারা। খেলার মাত্র আঠারোতম মিনিটেই আসে প্রথম গোল। সিটির নতুন তারকা জেরেমি ডকু বাম দিক দিয়ে নিখুঁত ক্রস পাঠালে তা হেড করে জালে জড়ান ফিল ফোডেন। মৌসুমে প্রথমবার শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়ে গোলের দেখা পান ইংলিশ এই তরুণ, যা সিটির সমর্থকদের উচ্ছ্বাস আরও বাড়িয়ে তোলে।

প্রথমার্ধ শেষ হয় সিটির ১-০ গোলের লিডে। বিরতির পর মাঠে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে ভিন্ন রূপে দেখা দেন নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। ৫৩তম মিনিটে ডকুর পাস ধরে দারুণ চিপ শটে গোল করেন তিনি। ইউনাইটেডের গোলরক্ষক জেমস ট্র্যাফোর্ডের কিছুই করার ছিল না সেই মুহূর্তে। এরপর ৬৮তম মিনিটে বার্নার্দো সিলভার থ্রু বল ধরে মাঝমাঠ থেকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যান হালান্ড। হ্যারি ম্যাগুইয়ারকে পিছনে ফেলে নিখুঁত শটে দ্বিতীয়বার জালের ঠিকানা খুঁজে পান তিনি। সেই গোলের পর স্টেডিয়ামে উপস্থিত লাল সমর্থকরা স্তব্ধ হয়ে যায়, আর সিটির সমর্থকেরা উল্লাসে ভাসতে থাকে।

ম্যাচের পরিসংখ্যানও সিটির আধিপত্য প্রমাণ করে। বল দখলে, পাস বিনিময়ে, টার্গেটে শটে সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল গার্দিওলার দল। মাঝমাঠে কেভিন ডি ব্রুইনে ও রড্রির নিয়ন্ত্রণে ইউনাইটেডের খেলোয়াড়রা বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত ছিলেন কেবল রক্ষণ সামলাতে। উইং থেকে বার্নার্দো সিলভা ও ডকুর গতি ও দক্ষতা বারবার বিপদ ডেকে আনে স্বাগতিক দলের ডিফেন্স লাইনে।

অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড চেষ্টা করেছিল রক্ষণভাগ শক্ত করে রেখে পাল্টা আক্রমণের সুযোগ নিতে। কিন্তু সিটির শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণভাগে সেই প্রচেষ্টা একের পর এক ব্যর্থ হয়। রাফায়েল ভারানে ও ম্যাগুইয়ারকে নিয়ে গড়া রক্ষণ একাধিকবার হালান্ড ও ফোডেনকে আটকানোর চেষ্টা করলেও তাতে সাফল্য মেলেনি। মাঝমাঠে ক্যাসেমিরো এবং ব্রুনো ফার্নান্দেজও সিটির পাসিংয়ের গতি থামাতে পারেননি।

এই জয়ে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। টানা দুটি জয় ও দুটি হারের পর সিটির সংগ্রহ এখন যথেষ্ট উন্নত অবস্থানে, তারা উঠে এসেছে অষ্টম স্থানে। অন্যদিকে, মৌসুমের শুরু থেকেই দুর্বল ফর্মে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য এই হার ছিল আরেকটি বড় ধাক্কা। সমর্থকদের হতাশা আরও গভীর করেছে তাদের এই পারফরম্যান্স।

ডার্বি মানেই দুই শহরের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কিন্তু এদিন মাঠের লড়াইতে ইউনাইটেড খুব একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেনি। গার্দিওলার কৌশল, সিটির খেলার গতি এবং হালান্ডের নির্ভুল ফিনিশিং মিলিয়ে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে একপেশে লড়াই উপহার দিল সিটি। ম্যাচ শেষে গার্দিওলা জানান, তাঁর দল এখনো পূর্ণ ছন্দে ওঠেনি, তবে খেলোয়াড়দের নিবেদন ও দলীয় সমন্বয় তাকে আশাবাদী করছে। অন্যদিকে, ইউনাইটেড কোচ এরিক টেন হাগ ম্যাচের পর দলের ভুল স্বীকার করে জানান, উন্নতি ছাড়া সামনে এগোনো সম্ভব নয়।

ফলাফল যাই হোক, ম্যানচেস্টার ডার্বি আবারও প্রমাণ করল এই লড়াই কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং দুই ক্লাবের গৌরব, ইতিহাস আর শহরের গর্বের প্রতীক। এবারের আসরে সেই প্রতিযোগিতায় স্পষ্টভাবেই জয়ী হলো ম্যানচেস্টার সিটি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত