১৪তমবারের মতো বিশ্বরেকর্ড ভেঙে চ্যাম্পিয়ন হলেন ডুপ্লান্টিস

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫০ বার
১৪তমবারের মতো বিশ্বরেকর্ড ভেঙে চ্যাম্পিয়ন হলেন ডুপ্লান্টিস

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রেকর্ড গড়া হয় ভাঙার জন্যই। কিন্তু আর্মান্ড ডুপ্লান্টিস যেন এক ব্যতিক্রমী চরিত্র। তিনি প্রতিবার নিজের রেকর্ড ভাঙেন, যেন নতুন উচ্চতায় পৌঁছানো তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। টোকিওতে চলমান বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে আবারও ইতিহাস গড়লেন এই সুইডিশ-আমেরিকান পোল ভল্টার। নিজের আগের রেকর্ড ভেঙে ১৪তমবারের মতো বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করেছেন তিনি, আর এর মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের সোনা।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে টোকিও ন্যাশনাল স্টেডিয়ামের ৬০ হাজার দর্শক প্রত্যক্ষ করলেন অ্যাথলেটিকস ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। পুরুষদের পোল ভল্টের ফাইনালে ডুপ্লান্টিস তৃতীয় চেষ্টায় ৬.৩০ মিটার অতিক্রম করেন, যা তার আগের রেকর্ড ৬.২৯ মিটার থেকে এক সেন্টিমিটার বেশি। প্রথম প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হলেও তিনি ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। দ্বিতীয় চেষ্টায় উরু দিয়ে সামান্য ছুঁয়ে ফেলায় দর্শকরা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু তৃতীয় চেষ্টায় বার অতিক্রম করার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্টেডিয়াম। সতীর্থ প্রতিযোগী ও কোচদের সঙ্গে সেই আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন ডুপ্লান্টিস।

মাত্র ২৫ বছর বয়সেই তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিশ্বের সেরা পোল ভল্টার হিসেবে। প্রতিযোগিতা শেষে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “এটা আমার কল্পনার চেয়েও ভালো। এই বিশ্বরেকর্ড আপনাদের উপহার দিতে পেরে দারুণ লাগছে। দর্শকদের সমর্থন ছিল অবিশ্বাস্য। আমি ভীষণ খুশি।”

ডুপ্লান্টিসের এই সাফল্য কেবল একটি রেকর্ড নয়, বরং একটি ধারাবাহিকতার প্রতিফলন। গত ছয় বছরে তিনি প্রায় অবিশ্বাস্যভাবে পোল ভল্টের রাজত্ব করে চলেছেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবার তিনি ফরাসি কিংবদন্তি রেনো ল্যাভিলেনির ৬.১৬ মিটারের বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছিলেন। তারপর থেকে তিনি প্রতিবার এক সেন্টিমিটার করে উচ্চতা বাড়িয়ে নিজের রেকর্ড ভাঙছেন। গত দুই বছরে তিনি ৩৭টি প্রতিযোগিতায় অপরাজিত রয়েছেন, যা তার আধিপত্যের প্রকৃষ্ট প্রমাণ।

বিশ্বরেকর্ড ভাঙা মানেই শুধু সম্মান নয়, আর্থিক পুরস্কারও। আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় নির্ধারিত বোনাস হিসেবে বিশ্বরেকর্ড ভাঙলে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় প্রতিযোগিতার নিজস্ব পুরস্কার এবং বিভিন্ন স্পনসরশিপের বাড়তি সুবিধা। ধারণা করা হয়, ডুপ্লান্টিস প্রতিবার নতুন রেকর্ড গড়ে বাড়তি অর্থনৈতিক সুবিধাও পাচ্ছেন, যা তাকে আরও উৎসাহিত করছে নিজের সীমা অতিক্রম করতে।

এই অর্জনের মাধ্যমে তিনি ইউক্রেনের কিংবদন্তি সের্গেই বুবকার পথেই হাঁটছেন। বুবকা ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে এক দশকে টানা ১৭ বার বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছিলেন। ডুপ্লান্টিস ইতিমধ্যেই ১৪ বার রেকর্ড গড়েছেন, যা বুবকার রেকর্ডকে ছাপিয়ে যাওয়ার এক অনন্য সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এবারের ফাইনালে গ্রিসের ইমানুয়েল কারালিস ৬.০০ মিটার অতিক্রম করে রৌপ্যপদক জিতেছেন। তিনি ৬.১০, ৬.১৫ এবং ৬.২০ মিটার লাফিয়ে চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেননি। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার কার্টিস মার্শাল টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতে নিজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।

টোকিওর এই আসরে শুধু ডুপ্লান্টিস নন, আরও কয়েকটি চমকপ্রদ ফলাফল উপহার দিয়েছে দর্শকদের। মহিলাদের ১০০ মিটার হার্ডলসে সবার অবাক করে দিয়ে সুইজারল্যান্ডের দিতাজি কামবুন্ডজি চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। পুরুষদের ৩০০০ মিটার স্টিপলচেজে জয়ের মাধ্যমে ইতিহাস গড়েছেন নিউজিল্যান্ডের জিওর্ডি বিমিশ, যাকে আগে তেমন কোনো সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। মহিলাদের হ্যামার থ্রোতে নিজের শিরোপা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন কানাডার ক্যামরিন রজার্স।

পুরুষদের ম্যারাথন ছিল নাটকীয়তার এক অনন্য উদাহরণ। ফটো ফিনিশে তানজানিয়ার আলফন্স ফেলিক্স সিম্বু মাত্র ০.০৩ সেকেন্ডের ব্যবধানে জার্মানির আমানোল পেট্রোসকে পরাজিত করেন। এ এক রুদ্ধশ্বাস প্রতিযোগিতা, যা দর্শকদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনায় বেঁধে রেখেছিল। এছাড়া ব্রিটিশ ত্রয়ী জশ কের, জেক উইটম্যান এবং নিল গৌরলি কঠিন লড়াই শেষে পুরুষদের ১৫০০ মিটারের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন, যা ব্রিটিশ অ্যাথলেটিকসে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

ডুপ্লান্টিসের ধারাবাহিকতা এবং অদম্য মানসিকতা আজ তাকে ক্রীড়া দুনিয়ার এক অবিচ্ছেদ্য নায়ক বানিয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও তার লাফ যেন প্রমাণ করে দিল, সীমা বলে কিছু নেই, যদি থাকে শুধু মানসিক দৃঢ়তা আর আত্মবিশ্বাস। তিনি বারবার নিজের সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছেন, আর প্রতিবার নতুন করে লিখছেন অ্যাথলেটিকস ইতিহাস।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডুপ্লান্টিসের শরীরের ফিটনেস, কৌশলগত দক্ষতা এবং মানসিক দৃঢ়তা তাকে আরও বহু বছর এগিয়ে রাখবে। তার ক্যারিয়ার এখনো প্রায় পূর্ণতা পায়নি, তাই সামনের দিনগুলোতে তিনি আরও কয়েকটি বিশ্বরেকর্ড ভাঙবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। অ্যাথলেটিকস দুনিয়ার ভক্তরা তাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, ডুপ্লান্টিস আবার কবে নিজের রেকর্ড ভাঙবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত