শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লড়াই করে হারল হংকং

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫৪ বার
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লড়াই করে হারল হংকং

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে হংকং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দারুণ লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত জয় হাতছাড়া করে। হংকংয়ের ব্যাটসম্যান নিযাকাত খান এবং আনশি রাঠের দৃঢ় পারফরম্যান্স যথেষ্ট হয়নি পাথুম নিসাঙ্কা ও ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার ঝড়ো ব্যাটিংয়ের মুখে। ম্যাচের চূড়ান্ত মুহূর্তে শ্রীলঙ্কা ৭ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে হংকং নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৪৯ রান সংগ্রহ করে। শুরুটা আসে দুই ওপেনার জিশান আলী ও আনশি রাঠের ৪১ রানের জুটি দিয়ে। জিশান ফিরলেও আনশি রাঠ নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ব্যাটিংকে গুছিয়ে রাখেন। অন্যদিকে নিযাকাত খান দলের ইনিংসকে দৃঢ় করেন। দু’জনে মিলে ৪৩ বলে ৬১ রান যোগ করেন। আনশি রাঠ ৪৮ রানে আউট হলেও নিযাকাত অপরাজিত থাকেন ৫২ রানে। তার ইনিংস ছিল ৩৮ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো, যা তার ১২তম আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি অর্ধশতক এবং প্রথমবার কোনো ফুল মেম্বার দলের বিপক্ষে। একই সঙ্গে এটি হংকংয়ের চলতি আসরের দ্বিতীয় অর্ধশতক।

১৭তম ওভারে নিযাকাত দু’বার জীবন পান, তবে তিনি সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলে দলকে এগিয়ে রাখেন। আনশি রাঠ খেলেন ৪৬ বলে ৪টি চার মেরে, ১০৪.৩৪ স্ট্রাইক রেটে, যা দলের ব্যাটিংয়ের ব্যালান্স বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শ্রীলঙ্কার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন দুশমন্থ চামিরা, ২৯ রানে নেন ২টি উইকেট।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা শুরুতেই ২৬ রানে কুসল মেন্ডিসকে হারায়। তবে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন পাথুম নিসাঙ্কা ও কুসল পেরেরা। তারা মিলে ৫৭ রানের জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংসকে স্থিতিশীল করে। হংকং চাপে ফেলে চারটি উইকেট তুলে নেওয়ায় পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার আউট হয়ে গেলে হংকংয়ের জয়ের স্বপ্ন আবারও জেগে ওঠে।

কিন্তু এই স্বপ্নকে চূর্ণ করে দেয় ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার ঝড়ো ক্যামিও। মাত্র ৯ বল খেলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় অপরাজিত ২০ রান করে তিনি দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যান। পাথুম নিসাঙ্কা ছিলেন অপর প্রান্তে ব্যাট হাতে জ্বলজ্বলে। ৪৪ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৮ রান করে তিনি দলের স্কোরবোর্ডে সর্বোচ্চ রান যোগ করেন। হংকংয়ের পক্ষে ইয়াসিম মুর্তজা ৩৭ রানে ২ উইকেট নেন।

এই জয়ের ফলে শ্রীলঙ্কা দুই ম্যাচে পূর্ণ ৪ পয়েন্ট নিয়ে সুপার ফোরের পথে অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়। আরব আমিরাতও দিনের অপর ম্যাচে ওমানকে ৪২ রানে হারিয়ে জয় অর্জন করে। এর মাধ্যমে ভারতের সুপার ফোরে ওঠা নিশ্চিত হয়।

এই ম্যাচে হংকংয়ের পারফরম্যান্স প্রশংসনীয় ছিল, বিশেষ করে নিযাকাত খান এবং আনশি রাঠের ব্যাটিংয়ে দেখা যায় দৃঢ়তা এবং কৌশল। দল হিসেবে তারা ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রদর্শন করলেও শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা এবং শেষ মুহূর্তের ঝড়ো ব্যাটিং হংকংয়ের জয় আকাঙ্ক্ষাকে রুদ্ধ করে।

শ্রীলঙ্কার পাথুম নিসাঙ্কা ও ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার পারফরম্যান্স প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। নিসাঙ্কা টেকনিক্যাল এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে দলকে দ্রুত স্কোরে এগিয়ে নেন, আর হাসারাঙ্গার শেষ মুহূর্তের ক্যামিও ম্যাচের ফলাফল নিশ্চিত করে। শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপের এই সংমিশ্রণ তাদের দলের জয়ের নিশ্চয়তা দেয়।

হংকং দলের তরুণ খেলোয়াড়রা বিশেষভাবে প্রশংসার যোগ্য। তাদের মধ্যে নিযাকাত খান তার অভিজ্ঞতা দিয়ে দলের লড়াইকে শক্তিশালী করেছেন। আনশি রাঠও ধীরগতিতে ব্যাটিং চালিয়ে দলের জন্য প্রয়োজনীয় রান যোগ করেছেন। এ ছাড়া ইয়াসিম মুর্তজার বোলিংয়ে পাওয়া দুই উইকেট হংকংয়ের জন্য উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল।

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটের প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তেজনা, দর্শকপ্রিয় ব্যাটিং এবং চূড়ান্ত মুহূর্তে নাটকীয় মোড় উপহার দিয়েছে। শ্রীলঙ্কার দল সুপার ফোরে এগিয়ে যাওয়ার পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জয় অর্জন করে। হংকং যদিও হারলেও তাদের আত্মবিশ্বাসী এবং কৌশলী খেলার ছাপ স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।

এই ম্যাচের ফলাফল থেকে প্রতিপক্ষের জন্যও একটি শিক্ষণীয় দিক বের হয়। দল হিসেবে পরিকল্পিত ব্যাটিং, দায়িত্বশীল বোলিং এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে একে অপরকে সহায়তা করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা হংকং–শ্রীলঙ্কা ম্যাচে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। পাশাপাশি তরুণ খেলোয়াড়দের চাপের মধ্যে কিভাবে খেলতে হয়, তা এই ম্যাচ তাদের জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতা হিসেবে কাজ করেছে।

শ্রীলঙ্কার জয়ের পেছনে কৌশলগত সিদ্ধান্ত যেমন ব্যাটিং অর্ডার ঠিক রাখা, চাপে থাকা সময় ব্যাটারদের ধৈর্য ধরে খেলার অনুশীলন, এবং শেষ মুহূর্তে ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলার সাহস ছিল মূল অবদান। এর সঙ্গে শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা ম্যাচের ফলাফলকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

হংকং দল ভবিষ্যতের জন্য এই হার থেকে শিক্ষা নিতে পারে। তরুণ খেলোয়াড়দের দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করা, চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, এবং সমন্বিত দলীয় পরিকল্পনা তৈরি করা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে তারা দেখিয়েছে যে, প্রতিযোগিতা জিতে বা হেরে, মনোবল এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়াই আসল অর্জন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত