১০১ টাকার ইঞ্জেকশন ১৩০১ টাকায় কেনা: ড্যাব কুমিল্লার তীব্র প্রতিবাদ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৬০ বার
১০১ টাকার ইঞ্জেকশন ১৩০১ টাকায় কেনা: ড্যাব কুমিল্লার তীব্র প্রতিবাদ

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ক্রয়, টেন্ডার এবং চিকিৎসাসামগ্রীর দামের অনিয়ম নিয়ে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) কুমিল্লা শাখা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। রোববার সকাল ১১টায় মেডিকেল কলেজের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সভায় ড্যাবের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য তুলে ধরেন এবং তা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দমন করার আহ্বান জানান। সভায় উপস্থিত ছিলেন ড্যাব কুমিল্লার সভাপতি ডা. মাসুম হাসান, সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুর রহমান মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক ডা. আরিফ হায়দার, সভাপতি ডা. মিনহাজুর রহমান তারেক এবং বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরা।

সভায় ড্যাব কুমিল্লার সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুর রহমান মজুমদার জানান, “এই হাসপাতালে ক্রয়ে বিশাল অনিয়ম চলছে। ১০১ টাকার একটি ইঞ্জেকশন কিনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১৩০১ টাকায় তা ক্রয় করেছে। এটি এক ভয়ানক দুর্নীতির উদাহরণ।” তিনি বলেন, ড্যাব কেন্দ্রীয় শাখা এবং নেতা তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। “আমরা চাই এই ক্যাম্পাসে কোনো দুর্নীতি চলতে না পারে। নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার হবে, চাঁদাবাজি বন্ধ হবে এবং রোগীদের বঞ্চনার সুযোগ থাকবে না,” তিনি যোগ করেন।

ড্যাব কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক ডা. আরিফ হায়দার বলেন, “যেসব অভিযোগ এসেছে, তা সুষ্ঠু তদন্তে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। অনিয়ম এবং দুর্নীতি মূলত চিকিৎসক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হয়, যার ফলে অসহায় ও দরিদ্র রোগীরা প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। বছরের কিছু সময় হাসপাতালে বেসিক মেডিসিনের সংকট দেখা দেয়, যা সরাসরি রোগীর জীবনের উপর প্রভাব ফেলে।” তিনি আরও বলেন, যারা এই অনিয়মে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সভায় ডা. মিনহাজুর রহমান তারেক বলেন, “ড্যাব কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভীর নির্দেশ অনুযায়ী, কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ লিখিত আকারে কেন্দ্রীয় ড্যাবে জমা দিতে হবে। ড্যাব কুমিল্লা শাখার বিরুদ্ধে অভিযোগও কেন্দ্রীয় শাখায় পৌঁছেছে, আমরা চাই তদন্তের পর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। ড্যাবের নামে ফান্ড রাইজ করা যাবে না, যদি কেউ তা করে থাকে, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সভায় ড্যাব কুমিল্লার সভাপতি ডা. মাসুম হাসান বলেন, “আমরা সততায় বিশ্বাস করি। আমাদের লক্ষ্য হলো ড্যাব কুমিল্লা শাখাকে দুর্নীতিমুক্ত রাখা। কোনো সদস্য যদি অনিয়মে জড়িত হয়, তা চূড়ান্তভাবে দমন করা হবে। হাসপাতালের সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান নিয়েছি।”

সভায় উপস্থিত অন্যান্য চিকিৎসক ও অধ্যাপকগণও নিজেদের বক্তব্যে হাসপাতালের টেন্ডার, ক্রয় এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের অনিয়মকে প্রকাশ করেন। গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারহানা বেগম রুমা, মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কামরুজ্জামান খোকন এবং অর্থোপেডিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আবুল হাসান সৈকত সবাই হাসপাতালের অনিয়ম এবং রোগীদের বঞ্চনার বিষয়টি তুলে ধরেন। শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মিয়া মঞ্জুর বলেন, “এ ধরনের অনিয়ম শুধুমাত্র অর্থনৈতিক নয়, এটি রোগীর জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। আমরা চাই প্রশাসন সক্রিয় হোক এবং সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক।”

ড্যাবের নেতৃবৃন্দ জানান, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে এই ধরনের অনিয়ম ও টেন্ডার বাণিজ্য দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। তারা সতর্ক করেছেন যে, কোনোভাবেই এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সহ্য করা হবে না এবং যারা এতে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ড্যাবের উপস্থিতি ও তৎপরতার মাধ্যমে হাসপাতালকে নিয়মনীতি মেনে পরিচালনার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ড্যাব কুমিল্লার সভাপতি ডা. মিনহাজুর রহমান তারেক সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ জানান, কেন্দ্রীয় শাখার কাছে লেখা অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত করা হবে। ড্যাবের নেতারা আরও জানান, ফান্ড রাইজের নামে কোনো টাকা উত্তোলন হলে তা কেন্দ্রীয় শাখা জানবে এবং ব্যবস্থা নেবে।

ড্যাব কুমিল্লার সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুর রহমান মজুমদার বলেন, “আমরা চাই এই ক্যাম্পাসে কোনো অনিয়ম চলুক না। যারা ভবিষ্যতে বা বর্তমানে অনিয়মে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ড্যাব কেন্দ্রীয় শাখা কঠোর পদক্ষেপ নেবে। কোনো দুর্নীতিবাজকে ড্যাবে স্থান দেওয়া হবে না।”

ড্যাবের সভাপতি ডা. মাসুম হাসানও তার বক্তব্যে বলেন, “ড্যাব কুমিল্লা শাখার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় শাখা সর্বদা নজর রাখছে। আমরা চাই সকল প্রকার অনিয়ম বন্ধ হোক এবং হাসপাতাল নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হোক।”

ড্যাব কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক ডা. আরিফ হায়দার বলেন, “যেসব অভিযোগ এসেছে, তা দ্রুত তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। এই ধরনের অনিয়ম শুধুমাত্র চিকিৎসা সেবার মান নষ্ট করছে, বরং গরিব ও অসহায় রোগীদের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।”

সভায় ড্যাবের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা একমত হয়েছেন যে, হাসপাতালের সকল ক্রয়, টেন্ডার এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্রয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। তারা দাবি করেছেন, কোনোভাবেই দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ড্যাব কুমিল্লার সভাপতি ডা. মিনহাজুর রহমান তারেক সভা সমাপ্ত করে জানান, কেন্দ্রীয় শাখার সঙ্গে সমন্বয় করে সব অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করা হবে এবং যে কেউ অনিয়মে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মাসুদ পারভেজ বলেন, “এই ধরনের অভিযোগ সত্য নয়। আমার নামে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আমরা সব সময় নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করছি।”

সভা শেষে ড্যাবের নেতৃবৃন্দ আরও জোর দিয়ে বলেন, হাসপাতালের প্রতিটি ক্রয়, টেন্ডার এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহে স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে কাজ করা প্রয়োজন। রোগীদের সুরক্ষা এবং সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য সকল অনিয়ম দূর করা অত্যাবশ্যক।

ড্যাব কুমিল্লা শাখার এই প্রতিবাদী সভা একটি সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা হাসপাতালের প্রশাসন এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের সতর্ক করার পাশাপাশি রোগী ও জনগণকে সচেতন করার উদ্দেশ্য রাখে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্রমাগত নজরদারি এবং সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া দেশের স্বাস্থ্য খাতের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত