এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ আজ কঠিন চ্যালেঞ্জে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৬ বার

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

এশিয়া কাপে সুপার ফোর পর্বের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। ইতিহাস-পরিসংখ্যানের বিচারে দুই দলের অবস্থান আকাশ-পাতাল পার্থক্যের হলেও প্রতিবারই এই দ্বন্দ্বে থাকে আলাদা উত্তেজনা। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আজ রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচে ভারত থাকছে স্পষ্ট ফেভারিট হিসেবে, তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় পাওয়া বাংলাদেশও আত্মবিশ্বাসী হয়ে মাঠে নামছে।

টি-টোয়েন্টি সংস্করণে ভারত ও বাংলাদেশের দেখা হয়েছে মোট ১৭ বার। এর মধ্যে মাত্র একবার জয় পেয়েছে বাংলাদেশ, বাকি ১৬ বার ভারতই হাসি হাসিয়েছে। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে দিল্লিতে প্রথম ও একমাত্র জয়টি এসেছিল টাইগারদের ঝুলিতে। এরপর কেটে গেছে প্রায় ছয় বছর, কিন্তু আর কখনো ভারতের বিপক্ষে জয় দেখা হয়নি। এমন পরিসংখ্যান বাংলাদেশের জন্য হতাশাজনক হলেও মাঠের লড়াইয়ে পরিসংখ্যানের চেয়ে মানসিক প্রস্তুতি ও দিনের পারফরম্যান্সই বড় ভূমিকা রাখে—এমনই বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ দলের কোচ ফিল সিমন্স।

সুপার ফোরে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। সেই জয় থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাস নিয়েই তারা মাঠে নামছে ভারতের বিপক্ষে। তবে প্রতিপক্ষ ভারত এখন পর্যন্ত এবারের এশিয়া কাপে অপরাজিত একমাত্র দল। শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলে তারা ইতিমধ্যেই ক্রিকেটবিশ্বের কাছে ট্রফির প্রধান দাবিদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের ওপেনাররা যে তাণ্ডব চালিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশি বোলারদের জন্য ম্যাচটি হয়ে উঠতে পারে এক কঠিন পরীক্ষার মঞ্চ।

ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ বর্তমানে দারুণ ছন্দে রয়েছে। শুভমান গিল, অভিষেক শর্মা, সাঞ্জু স্যামসন কিংবা হার্দিক পান্ডিয়া—প্রত্যেকেই রান করতে মরিয়া। ওপেনাররা শুরুতে দ্রুত রান তুলতে পারলে মিডল অর্ডার সেই ধারা বজায় রেখে ইনিংস বড় করতে সক্ষম। অন্যদিকে বোলিং আক্রমণে জাসপ্রিত বুমরাহ, কুলদ্বীপ যাদব ও বরুণ চক্রবর্তীর মতো বোলাররা প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের ওপর লাগাতার চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন। ফলে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের রান তুলতে হবে অনেক সতর্ক হয়ে, আবার সুযোগ পেলে আক্রমণাত্মকও হতে হবে।

বাংলাদেশের ওপেনিংয়ে আজও দেখা যাবে তানজিদ তামিম ও সাইফ হাসানকে। শেষ ম্যাচে সাইফ যে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং উপহার দিয়েছেন, তা তাকে একাদশে জায়গা পাকাপোক্ত করে দিয়েছে। ওপেনিংয়ে ভালো সূচনা না পেলে ভারতের মতো দলের বিপক্ষে ম্যাচে টিকে থাকা কঠিন হবে। মিডল অর্ডারে তাওহিদ হৃদয় ও অধিনায়ক লিটন দাসের কাঁধে থাকবে দায়িত্ব। বিশেষ করে অধিনায়কের ব্যাট থেকে বড় ইনিংস আসা জরুরি।

বোলিং আক্রমণে মোস্তাফিজুর রহমানের অভিজ্ঞতা, তাসকিন আহমেদের গতি আর শেখ মাহেদি ও নাসুম আহমেদের স্পিনে ভরসা রাখছে টিম ম্যানেজমেন্ট। শেষ ম্যাচে শরিফুল ইসলামের পারফরম্যান্স হতাশাজনক হওয়ায় তার জায়গায় একাদশে ফিরতে পারেন তরুণ পেসার তানজিম হাসান সাকিব। শুধু বল হাতে নয়, ব্যাট হাতেও নিচের দিকে নেমে তিনি দলকে অতিরিক্ত রান এনে দিতে সক্ষম। অন্যদিকে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনকে খেলানো হবে কি না, তা নিয়েও চলছে আলোচনা। তবে দলীয় ভারসাম্য ঠিক রাখতেই তাকে বাইরে রাখা হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।

বাংলাদেশের কোচ ফিল সিমন্স ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ভারতের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জটা বিশাল হলেও খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে প্রস্তুত। তিনি বলেন, “শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমাদের পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে, সঠিক পরিকল্পনা ও একাগ্রতা থাকলে আমরা বড় দলগুলোকেও হারাতে পারি। ভারত অবশ্যই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, তবে আমরা আমাদের সামর্থ্যে বিশ্বাস করি।”

বাংলাদেশের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হতে পারে দুবাইয়ের উইকেট সম্পর্কে আগের ম্যাচ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা। লঙ্কানদের বিপক্ষে খেলার ফলে পিচ ও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ায় টাইগারদের সুবিধা হবে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারলেই ভারতের ব্যাটিং শক্তির সামনে লড়াইটা কিছুটা হলেও সহজ হতে পারে।

ভারতীয় শিবিরে অবশ্য আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। তাদের কোচ ও সিনিয়র ক্রিকেটাররা জানিয়েছেন, দলের প্রতিটি বিভাগই এখন ছন্দে আছে। ব্যাটিং, বোলিং বা ফিল্ডিং—কোনো জায়গায়ই দুর্বলতা নেই। তারা চাইবে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে ফাইনালের পথে আরও এগিয়ে যেতে।

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশকে আজ জয় পেতে হলে তিন বিভাগেই (ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং) সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে হবে। ভারতের ব্যাটিং শক্তিকে দ্রুত চাপে ফেলা ছাড়া তাদের হারানো সম্ভব নয়। বিশেষ করে প্রথম ছয় ওভারে একাধিক উইকেট তুলে নেওয়া বাংলাদেশি বোলারদের জন্য অপরিহার্য।

আজকের ম্যাচ শুধু জয়-পরাজয়ের দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং মানসিক দৃঢ়তারও বড় পরীক্ষা বাংলাদেশের জন্য। ভারতীয় ক্রিকেটের বিপুল শক্তির বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে লাল-সবুজ শিবিরে ফিরে আসবে নতুন আত্মবিশ্বাস, যা ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোতেও প্রভাব ফেলবে।

সর্বোপরি, ইতিহাস ও পরিসংখ্যান ভারতের পক্ষে থাকলেও ক্রিকেট সবসময় অনিশ্চয়তার খেলা। সঠিক পরিকল্পনা, অটুট মনোবল ও দলগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ যদি নিজেদের দিনে থাকতে পারে, তবে আবারও হতে পারে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। এখন ক্রিকেটপ্রেমীরা তাকিয়ে আছেন রাত সাড়ে আটটার অপেক্ষায়, যখন দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শুরু হবে এশিয়া কাপে ভারত-বাংলাদেশের এই বহুল প্রতীক্ষিত লড়াই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত