প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও বজ্রসহ ভারি বর্ষণ হতে পারে। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর এই পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে, যদিও সারাদেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে অপরিবর্তিত থাকবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু অঞ্চলেও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর মধ্যে দেশের কিছু স্থানে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণেরও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা স্বল্প সময়ে জলাবদ্ধতা ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় বর্তমানে একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। এটি ধীরে ধীরে ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লঘুচাপের সঙ্গে যুক্ত মৌসুমি বায়ুর অক্ষ উত্তর প্রদেশের পূর্বাংশ, বিহার, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। যদিও মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয়, তবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় রয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়িয়ে তুলছে।
দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এ মৌসুমি প্রভাবে কৃষিজমিতে কিছুটা সুবিধা হলেও অতিরিক্ত বর্ষণ হলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টি ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে বলে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে লঘুচাপ ঘনীভূত হলে নদী ও সমুদ্রপথে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে, যা নৌযান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটাতে সক্ষম।
রাজধানী ঢাকায় শুক্রবার বিকেল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরমে নগরবাসী দুর্ভোগে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, রাজধানীসহ মধ্যাঞ্চলে মাঝারি ধরনের বজ্রবৃষ্টি হতে পারে, যা গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও জলাবদ্ধতার কারণে নগরবাসীর ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই ঢাকা শহরের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায়, যানজট সৃষ্টি হয় এবং জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে আসে।
খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য পূর্বাভাস কিছুটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ যদি ঘনীভূত হয় তবে সেটি নিম্নচাপ বা এমনকি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্থানীয় জেলেদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। যদিও এখনো কোনো ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি আশঙ্কা নেই, তবুও সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ছোট নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে মৌসুমি বায়ুর ধরণেও ভিন্নতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগে নির্দিষ্ট সময়ে স্থিতিশীল বর্ষা দেখা গেলেও এখন অনিয়মিত ও অসম বৃষ্টিপাত হচ্ছে। একদিকে কোথাও অতি বৃষ্টি বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে আবার কোথাও দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়ায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এই বৈপরীত্য বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মৌসুমি বায়ুর অস্বাভাবিক আচরণ আরও বাড়তে পারে।
এদিকে দেশের কৃষকরা মৌসুমি বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে আছেন। বিশেষ করে আমন ধানের জমি সেচের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় সময়মতো বৃষ্টিপাত হলে ফসলের উৎপাদন বাড়তে পারে। তবে অতিবৃষ্টি হলে ফসল নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সিলেট অঞ্চলের চা বাগান ও পাহাড়ি ঢালে বৃষ্টিপাত চাষাবাদে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও যদি বৃষ্টি ভারি আকার ধারণ করে, তবে তা ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
আবহাওয়ার এ ধরনের অস্থিরতায় জনসাধারণকেও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বজ্রবৃষ্টির সময় খোলা মাঠ বা উঁচু জায়গায় অবস্থান না করা, বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া জরুরি। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পাহাড়ি এলাকা ও উপকূলীয় অঞ্চলে সতর্কবার্তা জারি করা হতে পারে।
সব মিলিয়ে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি মিললেও ভারি বর্ষণ হলে জলাবদ্ধতা, ফসলের ক্ষতি এবং ভূমিধসের মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এখন নজর থাকবে লঘুচাপটি আদৌ ঘনীভূত হয় কি না এবং মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা কতটা বৃদ্ধি পায় তার ওপর।