কুমিল্লায় ছাত্রলীগ ঠেকাতে কঠোর পুলিশি পদক্ষেপ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩৮ বার
“কলকাতায় পালিয়ে থাকা বাংলাদেশের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ও পুলিশদের তথ্য পেল ভারত”

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

কুমিল্লায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে বিরাট উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনটির তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে কেন্দ্র করে নাশকতার পরিকল্পনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কুমিল্লা জেলা পুলিশ স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে, ছাত্রলীগের মিছিল বা নাশকতামূলক তৎপরতা ঠেকাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাহার করা হবে। পুলিশের একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানকে অনেকেই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। কারণ সাধারণত রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কেবল নির্দেশনা দেওয়া হলেও এবার সরাসরি দায়বদ্ধতার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যার অর্থ হলো, কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন থানার ওসিরা এখন দ্বিগুণ চাপে আছেন—একদিকে ছাত্রলীগের তৎপরতা রুখতে হচ্ছে, অন্যদিকে নিজেদের চাকরি ও দায়িত্ব রক্ষার ভারও বহন করতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পরও ছাত্রলীগ তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করেনি। বরং তারা নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। ঝটিকা মিছিল, হঠাৎ করে মহাসড়ক অবরোধ এবং টায়ার পুড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করার মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা জনমনে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিতে চাইছে। গত কয়েক সপ্তাহে কুমিল্লার ময়নামতি, দাউদকান্দি, চান্দিনা ও বুড়িচংসহ বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগের এমন ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। এসব মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগই মুখোশধারী এবং দ্রুত ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়, ফলে পুলিশ তাদের ধরতে হিমশিম খায়।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি ইকবাল বাহার জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত মহাসড়কে অবস্থান করছেন এবং নিজেই সরাসরি নজরদারি করছেন। তার ভাষায়, “ছাত্রলীগের নাশকতা ঠেকাতে আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। জেলা পুলিশের সঙ্গে আমাদের সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”

একই সুরে কথা বলেছেন দাউদকান্দি থানার ওসি জুনায়েদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে নাশকতার প্রস্তুতিকালে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অন্তত ২৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মহাসড়কে টহল বাড়ানো হয়েছে, একই সঙ্গে গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে। তার মতে, পুলিশ সুপার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন, তাই নাশকতা প্রতিরোধে তারা সর্বশক্তি নিয়োগ করছেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ বলেছেন, “আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ যেন কোনো অপতৎপরতা চালাতে না পারে। এজন্য প্রতিটি থানার ওসিদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি দায়িত্বে গাফিলতি করে, তাকে সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাহার করা হবে।” তার এই বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, কুমিল্লায় ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডকে শুধু আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নয়, বরং প্রশাসনের মর্যাদার সঙ্গেও জড়িয়ে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কুমিল্লা জেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মহাসড়ক দেশের প্রধান বাণিজ্য রুট হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস এবং ছোট গাড়ি চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। ফলে এখানে সামান্য নাশকতাও পুরো জাতীয় অর্থনীতি ও যাতায়াতে বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে। তাই জেলা পুলিশের এই কঠোর অবস্থানকে অনেকেই সময়োপযোগী বলছেন।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা দেওয়ার পরও সংগঠনটির কর্মকাণ্ড দমে যায়নি। বরং তারা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে, বিশেষ করে মহাসড়ককে টার্গেট করার মধ্য দিয়ে তারা জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসতে চাইছে। এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে কাজ করতে হবে, যাতে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে না হয়।

স্থানীয় জনগণের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, প্রতিদিন মহাসড়ক ব্যবহার করতে হয়, আর হঠাৎ করে ঝটিকা মিছিল বা নাশকতা ঘটলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ ও জরুরি চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্তরা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই তারা চাইছেন, প্রশাসন যেভাবেই হোক না কেন এই নাশকতা প্রতিরোধ করুক।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে এখন বাড়তি চাপ কাজ করছে। কারণ ওসি পদ থেকে প্রত্যাহার মানে শুধু দায়িত্ব হারানো নয়, বরং পেশাগত জীবনে বড় ধরনের ধাক্কা। তাই প্রতিটি থানার কর্মকর্তা এখন ছাত্রলীগের তৎপরতার বিরুদ্ধে আরও সতর্কভাবে কাজ করছেন।

সব মিলিয়ে, কুমিল্লার পরিস্থিতি এখন এক ধরনের উত্তেজনা ও সতর্কতার মধ্যে রয়েছে। একদিকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ তাদের উপস্থিতি জানান দিতে মরিয়া, অন্যদিকে জেলা পুলিশ দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। এই দ্বন্দ্ব কোথায় গিয়ে শেষ হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় পরিষ্কারকুমিল্লা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন সবার নজরে, আর প্রতিটি পদক্ষেপই হতে যাচ্ছে ভবিষ্যতের জন্য নির্ধারক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত