আবারো স্টেজ শোতে মুগ্ধ করবেন সাবিনা ইয়াসমিন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪২ বার

প্রকাশ ২৬ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনের জীবন্ত কিংবদন্তি, বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন আবারো স্টেজ শোতে উপস্থিত থেকে দর্শককে গান ও সুরের জাদুতে মুগ্ধ করবেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তার সঙ্গে এক মিউজিশিয়ান হিসেবে কাজ করছেন দেশের প্রখ্যাত তবলা বাদক চন্দন দত্ত। চন্দন দত্ত জানান, “শ্রদ্ধেয় সাবিনা আপার আজকের এই আয়োজন নিয়ে আমরা সকল মিউজিশিয়ানরা বেশ উচ্ছ্বসিত। আশা করছি আজকের আয়োজনটিও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

সাবিনা ইয়াসমিন নিজেও এই আয়োজনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজধানীর একটি অভিজাত পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত কর্পোরেট শো’তে আজ তিনি নিজস্ব সঙ্গীত পরিবেশন করবেন। তাঁর সঙ্গে এই প্রজন্মের কয়েকজন প্রতিভাবান গায়ক ও গায়িকাও সঙ্গীত পরিবেশন করবেন।

বীরাঙ্গনা সুরের এই প্রজাপতি বলেন, “এখনো বেশ ভালো লাগা নিয়ে স্টেজ শোতে গান গেয়ে যেতে পারছি। শ্রোতা দর্শককে গানে গানে মুগ্ধ করে যাচ্ছি—এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত। কারণ আমি সারা জীবন শ্রোতা দর্শকের জন্যই গান গেয়েছি।” সাবিনা ইয়াসমিনের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ সঙ্গীত জীবন এমনকি দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসেও অমর হয়ে আছে। ১৯৮৪ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন এবং ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারসহ সর্বোচ্চ ১৪ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন।

সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তার জন্মদিন উপলক্ষ্যে শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত একক সঙ্গীত সন্ধ্যা ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা তার জীবনের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে রয়ে গেছে। এই অনুষ্ঠানে সিনিয়র শিল্পীরাও তার পাশে থেকে প্রেরণা যুগিয়েছিলেন এবং কেউ কেউ তার সঙ্গে মঞ্চে গানও পরিবেশন করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এই যে ভালোবাসা, এর কোনো তুলনা হয়না। আজও হয়তো এমন ভালোবাসায় সিক্ত হবো আমি। গানে গানে আমন্ত্রিত শ্রোতা দর্শককে মুগ্ধ করার চেষ্টা করবো। ইনশাল্লাহ, সবার সঙ্গে দেখা হবে।”

সাবিনা ইয়াসমিনের স্টেজ শো’গুলো শুধু একটি সঙ্গীতানুষ্ঠান নয়, এটি হয়ে উঠেছে সঙ্গীতশিল্পী ও শ্রোতার মধ্যে এক অসাধারণ সংযোগের স্থাপন। এই সংযোগই তাকে অনুপ্রাণিত করে প্রতিটি আয়োজনকে স্মরণীয় করে তোলার জন্য। দেশের নতুন প্রজন্মের মিউজিশিয়ানরা তার সঙ্গে মঞ্চ ভাগাভাগি করে কেবল অভিজ্ঞতা নয়, বরং সঙ্গীতের জগতে মূল্যবান শিক্ষা অর্জন করেন।

ট্রাম্প-এর্দোগান বৈঠক: ২৫ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে

চন্দন দত্ত জানান, দীর্ঘদিন ধরে সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণামূলক। “আপনি যখন একজন কিংবদন্তি শিল্পীর সঙ্গে মঞ্চ ভাগাভাগি করেন, তখন প্রতিটি নোট, প্রতিটি সুরে এক নতুন শিক্ষা আসে। আমাদের আশা, আজকের আয়োজনে সেই সঙ্গীতের মাহাত্ম্য সকল দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে।”

সাবিনা ইয়াসমিনের সংগীত জীবন শুধু পুরস্কার, সম্মাননা ও প্রতিভা অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তার প্রতিটি পরিবেশন মানুষের মন জুড়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। স্টেজ শো থেকে আন্তর্জাতিক কনসার্ট—সব জায়গাতেই তিনি শ্রোতার সঙ্গে একান্ত সম্পর্ক স্থাপন করে গানের মাধ্যমে তাদের অনুভূতি স্পর্শ করেন। তিনি জানান, আগামী অক্টোবর মাসে দেশের বাইরে আরও একটি বড় শোতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশের সঙ্গীতের স্বীকৃতি প্রদানের সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সঙ্গীতের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র কেবল দেশের সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্যই নয়, বরং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার সংগীতপ্রেমীদের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক। তার প্রতিটি স্টেজ শো ও পরিবেশন কেবল সঙ্গীত নয়, বরং এক শিল্প ও সংস্কৃতির প্রদর্শনী, যেখানে শ্রোতা ও শিল্পীর মধ্যে এক অনন্য সংযোগ স্থাপিত হয়।

সাবিনা ইয়াসমিনের এই উদার মনোভাব ও সঙ্গীতপ্রেমের কারণে তার পরিবেশন শুধু শ্রোতা মাতানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও এটি অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা ও সংগীতময় জীবন দিয়ে প্রমাণ করেন যে, সঙ্গীতের মাধ্যমে সমাজে ভালোবাসা, সম্মান এবং ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

আজকের স্টেজ শো’তে সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে যারা অংশগ্রহণ করছেন, তারা সবাই প্রতিভাবান শিল্পী। এই আয়োজন তাদের জন্যও এক নতুন সুযোগ, যেখানে তারা একটি কিংবদন্তির সঙ্গে মঞ্চ ভাগাভাগি করে সঙ্গীতের উচ্চতর মান ও আবেগ উপলব্ধি করতে পারবেন। এই অভিজ্ঞতা তাদের সঙ্গীত জীবনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং বাংলাদেশি সঙ্গীতের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

অতএব, সাবিনা ইয়াসমিনের স্টেজ শো কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনে পরিণত হয়, যেখানে দেশের সঙ্গীত, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার ঐতিহ্যকে আধুনিক প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয়। তার এই ব্যস্ততম সময়ে স্টেজ শোতে অংশ নেওয়া দর্শক ও মিউজিশিয়ানরা সঙ্গীতের মহিমা অনুভব করবেন এবং দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এটি দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সাবিনা ইয়াসমিনের জীবন ও কর্মের এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে, সঙ্গীত শুধুমাত্র কলা নয়, এটি এক প্রেরণার মাধ্যম যা মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করে, সমাজে ঐক্য স্থাপন করে এবং দেশের সাংস্কৃতিক গৌরবকে উজ্জ্বল রাখে। তার স্টেজ শো ও আন্তর্জাতিক পরিবেশনায় অংশগ্রহণ বাংলাদেশের সঙ্গীতের জন্য এক অনন্য অর্জন, যা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত