দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সজাগ থাকার আহ্বান জানালেন ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৭৩ বার
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সজাগ থাকার আহ্বান জানালেন ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবগুলোর একটি হলো শারদীয় দুর্গোৎসব। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই উৎসব কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি বাঙালি সংস্কৃতির বহুমাত্রিক ঐতিহ্যের প্রতীক। প্রতিবছর সারা দেশে লাখো মানুষ দুর্গাপূজা উপলক্ষে একত্রিত হন। পূজা মণ্ডপে জমে ওঠে মিলনমেলা, ঢাকঢোল আর আলোকসজ্জার উৎসবে সৃষ্টি হয় উচ্ছ্বাসময় পরিবেশ। তবে এরই সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়। এমন এক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু সাদিক কায়েম দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপ করেন। সেখানে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে দুর্গাপূজা শুধুমাত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি বাঙালির সম্মিলিত সংস্কৃতির একটি উজ্জ্বল নিদর্শন। তাই আমি সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি—আমরা যেন একে অপরের ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে সম্মান করি, অংশগ্রহণ করি এবং সর্বোপরি নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকি।”

সেপ্টেম্বরের ২০ দিনে এসেছে ১৯০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

ডাকসুর ভিপি আরও উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্গাপূজা কেন্দ্রিক অযথা গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো হয়। তিনি ছাত্রসমাজকে এ ধরনের অপপ্রচার প্রতিহত করতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তার মতে, তরুণরাই পারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা বাস্তব জীবনে গুজব মোকাবিলার শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে। তিনি বলেন, “সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। দেশের তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব হলো—যেকোনো উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা।”

পরিদর্শন শেষে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম জগন্নাথ হল পূজা কমিটির সঙ্গে আলোচনা সভায় যোগ দেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক দেবাশীষ পাল, পূজা কমিটির সভাপতি, হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক দ্বীপজয় সরকার দীপ্ত, সমাজসেবা সম্পাদক রাম প্রসাদ সাহা এবং অন্যান্য সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ। আলোচনায় সবাই একমত হন যে, দুর্গাপূজার মতো উৎসবকে ঘিরে নিরাপত্তার বিষয়টি অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। মণ্ডপে প্রবেশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল বাড়ানো উচিত বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।

ডাকসুর ভিপি তার বক্তব্যে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাঙালির হৃদয়ের উৎসব। তাই প্রশাসনের দায়িত্ব হচ্ছে, দেশের প্রতিটি মণ্ডপে পূজারীরা যেন নির্বিঘ্নে পূজা সম্পন্ন করতে পারেন তা নিশ্চিত করা।” তিনি এ সময় সারাদেশের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সজাগ থাকার অনুরোধ জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ঐতিহ্যগতভাবে দুর্গাপূজার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রতিবছর হাজারো দর্শনার্থী এখানে ভিড় জমায়। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এবারের পূজাও এর ব্যতিক্রম নয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে ইতোমধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির মাধ্যমে উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।

উৎসবকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ সঞ্চালনা করেন। তার সঙ্গে ছিলেন ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বী এবং কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র। তারা সবাই দুর্গাপূজার সময়ে শিক্ষার্থীদের সজাগ থাকার পরামর্শ দেন।

সভায় বক্তারা বলেন, পূজাকে ঘিরে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না; স্থানীয় মানুষ, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ নিরাপত্তা শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়, এটি সামাজিক দায়িত্বও বটে।

ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েমের বক্তব্য মূলত তরুণ সমাজের উদ্দেশে ছিল। তিনি মনে করেন, ছাত্রসমাজ যদি নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকে, তবে কোনো অপশক্তি বা অরাজকতা সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী পূজার আনন্দকে ম্লান করতে পারবে না। তিনি বলেন, “যুবসমাজই হচ্ছে জাতির শক্তি। তারা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ায়, তবে কোনো বিভেদ সৃষ্টিকারী শক্তিই সফল হবে না।”

এবারের দুর্গাপূজা সারাদেশে ৩৩ হাজারেরও বেশি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঢাকায় মণ্ডপের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫৯টিতে। এ বিশাল আয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ইতোমধ্যেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, আনসার এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা চৌকি।

বাংলাদেশে দুর্গাপূজা এখন শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং সামাজিক সম্প্রীতির উৎসব হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। পূজার সময় কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নয়, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও মণ্ডপে ভিড় জমান। একসঙ্গে উৎসব উপভোগ করার এই চিত্রই বাংলাদেশের বহুবর্ণ সংস্কৃতির প্রতীক। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে অতীতে পূজাকে কেন্দ্র করে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যা এ উৎসবের আনন্দকে কলঙ্কিত করেছে। তাই এবারের পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্যই ডাকসুর ভিপির আহ্বান বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলে কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ই উপকৃত হবে না, বরং গোটা জাতিই উপকৃত হবে। কারণ উৎসবের আনন্দ সবার। তাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে দায়িত্ব নিতে হবে।

সর্বশেষে তিনি পুনরায় শিক্ষার্থী, প্রশাসন এবং সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা যদি সজাগ থাকি, তবে দুর্গাপূজা কেবল নিরাপদই হবে না, বরং এটি হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত