থমথমে খাগড়াছড়ি, ১৪৪ ধারা জারি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৭ বার
থমথমে খাগড়াছড়ি, ১৪৪ ধারা জারি

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। কয়েকদিন ধরে চলমান উত্তেজনা শনিবার নতুন মাত্রা পায় যখন জুম্ম ছাত্র-জনতার ডাকে সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে শহরের মহাজন পাড়া ও উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৩ জন আহত হয়। এর জের ধরে জেলা প্রশাসন রোববার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য খাগড়াছড়ি জেলা সদর ও পৌরসভা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

ভোর থেকেই শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সামনের রাস্তায় এবং প্রবেশপথে মোতায়েন করা হয়েছে সেনা সদস্য ও পুলিশ। একই সঙ্গে সাত প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে জেলা সদরে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সকাল থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পুরো শহরে দোকানপাট, মার্কেট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

এর আগে শনিবার রাতে সাজেক ভ্যালিতে আটকে পড়া দুই হাজারেরও বেশি পর্যটককে সেনা নিরাপত্তায় নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন সারারাত ব্যস্ত সময় পার করে। পর্যটননির্ভর এই অঞ্চলে হঠাৎ উত্তেজনা ও সহিংসতার কারণে পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

খাগড়াছড়ি জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. ছাবের জানিয়েছেন, শনিবারের সংঘর্ষে আহত ২৩ জনের মধ্যে ২১ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে দুজন এখনও সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন স্থানীয় ছাত্র ও সাধারণ মানুষ ছিলেন।

খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল গণমাধ্যমকে জানান, শনিবার দুপুর থেকে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালায় এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেয়। নতুন করে যেন আর সহিংসতা না ঘটে, সেই লক্ষ্যে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে, বিজিবি খাগড়াছড়ি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মো. হাসনুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমানে সাত প্লাটুন বিজিবি খাগড়াছড়ি সদরে দায়িত্ব পালন করছে। শহরের ভেতরে ও আশপাশে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো নতুন সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শহরের রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা, যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পার্বত্য অঞ্চলে ভূমি দখল, জাতিগত বিরোধ এবং রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শনিবারের ঘটনাও মূলত রাজনৈতিক ও জাতিগত টানাপোড়েন থেকেই উৎপত্তি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৪৪ ধারা জারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের একটি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর সমাধান রাজনৈতিক ও সামাজিক সমঝোতার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের অস্থিতিশীলতা বারবার দেখা দেবে এবং সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

খাগড়াছড়ি পৌর এলাকার মানুষ এখন প্রশাসনের কঠোর অবস্থার মধ্যে দিন পার করছেন। অভিভাবকরা সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত, ব্যবসায়ীরা লোকসানের আশঙ্কায় আছেন, আর পর্যটন খাত আবারও বড় ধাক্কা খেয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যাবে।

এখন সবার দৃষ্টি জেলা প্রশাসন, সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপের দিকে। প্রশাসন দাবি করছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে বাস্তবে খাগড়াছড়ির বাতাসে এখনও অস্বস্তি আর অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত