কেবল ‘রেল সেবা’ অ্যাপ দিয়েই টিকিট নিন — রেলওয়ে সতর্কবার্তা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৬৪ বার
কেবল ‘রেল সেবা’ অ্যাপ দিয়েই টিকিট নিন — রেলওয়ে সতর্কবার্তা

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশ রেলওয়ে যাত্রীদের ট্রেনে হয়রানি ও প্রতারণা থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে কড়া সতর্কতা জারি করেছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকীর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে অনলাইন টিকিট ব্যবস্থাপনা শতভাগ করে নেওয়ায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো টিকিট অন্য কোথাও বৈধভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই ট্রেনের টিকেট সংগ্রহ করতে হলে কেবলমাত্র বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত মোবাইল অ্যাপ ‘রেল সেবা’ ব্যবহার করতেই হবে। রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং নন-অফিশিয়াল চ্যানেলে টিকিট বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা হচ্ছে এবং অনেকে অর্থ লোপাটের শিকার হয়ে হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছেন।

রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, 최근 সময়ে সামাজিক মাধ্যম ও অনলাইনে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে মানুষকে টার্গেট করছে। তারা বিকাশ, নগদ বা অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বা সেই নম্বরই বন্ধ করে দেয়। নিকটবর্তী কাউকে টিকিট সংগ্রহ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে সাধারণ মানুষের পক্ষেই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, নির্দেশ দিয়েছে রেলওয়ে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, রেজিস্টার্ড এক আইডি ব্যবহার করে একক যাত্রায় সর্বোচ্চ চারটি টিকিটই ক্রয় করা যায় এবং টিকিটে উল্লিখিত সহযাত্রীদের নাম ইনপুট করা বাধ্যতামূলক। সেই আইডিধারী ব্যক্তিরই সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন ও ফটোসহ আইডি তাদের সঙ্গে থাকা অবস্থায় ভ্রমণ করার শর্তারোপ আছে। আইডিধারী ব্যক্তি বা টিকিটে যাদের নাম আছে তাদের ছাড়া কেউ ভ্রমণ করলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

রেলওয়ের নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রতারণা বিরোধী তৎপরতার অংশ হিসেবে রেল নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ও রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দিচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেলে যাত্রীদের অনুরোধ করা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় রেল কর্তৃপক্ষ বা নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানাতে এবং প্রয়োজন হলে হটলাইন ১৩১ নম্বরে ফোন করে তথ্য দিতে। অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখার বিষয়টিও রেলওয়ে নিশ্চিত করেছে।

রেলওয়ের প্রশিক্ষিত কর্মকর্তারা মনে করান যে অনলাইনে টিকিট কেনার সময় কেবল অ্যাপ ব্যবহার করলেই নয়, অ্যাপে লগইন রাখা ব্যক্তিগত তথ্য ও পাসওয়ার্ড মজবুত রাখা, কখনও কাউকে পাসওয়ার্ড বা ওয়ান-টাইম পিন (ওটিপি) না জানানো এবং অননুমোদিত লিংক থেকে লেনদেন না করা—এসবও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বিধি। রেলওয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, টিকেট সংক্রান্ত যে কোনো অফার, দ্রুত ব্যবস্থা বা অ্যাকাউন্ট যাচাই চাইলে যাত্রী আগে দরজাগতভাবে রেলওয়ের অফিস, অফিসিয়াল কল সেন্টার বা নির্ভরযোগ্য চ্যানেলের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে নেবেন।

বিশ্লেষকরা মনে করান, অনলাইনে টিকিট ব্যবস্থাপনা শতভাগ চালু হলেও প্রতারণার নয়া কৌশল বের হচ্ছে; অপরিচিত ব্যক্তির কাছে টাকা পাঠিয়ে টিকেট নিশ্চিত করার অনুরোধ করলে সতর্ক হওয়া উচিৎ। রেলওয়ের সতর্কবার্তার ফলে অনেকে ইতোমধ্যেই নন-অফিশিয়াল বিক্রেতাদের তৎপরতা সম্পর্কে নজরদারি শুরু করেছেন; তবে গ্রামাঞ্চল বা কম ডিজিটাল সাক্ষরকারী অঞ্চলের যাত্রীদের সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। রেলওয়ের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, প্রযুক্তি নির্ভর পদ্ধতি ছাড়াও জনগণের মাঝে সচেতনতা বাড়ানো না হলে প্রতারণা রোধ কঠিন হবে।

টিকিট কেনার প্রক্রিয়া সহজ করা হলেও যাত্রীদের নিজেদের করণীয়ও আছে। রেলওয়ের অফিসিয়াল ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, রেল সেবা অ্যাপে লগইন করে রেজিস্ট্রেশন আইডি দিয়ে টিকিট ক্রয় করার পরই কনফার্মেশন মেসেজ আসে; এই মেসেজ স্ক্রিনশট করে রাখা এবং যাত্রার সময় সাথে থাকা মোবাইল ও আইডি প্রদর্শন করাই ভ্রমণের অতি প্রয়োজনীয় শর্ত। অ্যাপ ছাড়া টিকিট বিক্রি করছে এমন কারো প্রলোভনে পড়লে টাকা পাঠানো থেকে বিরত থাকতে তারা জোর দিয়ে অনুরোধ করেছে। একই সঙ্গে রেলওয়ে অফিস ও স্টেশনে যেসব কার্যক্রম অনলাইনে নয় মানুষকে সহায়তা করা হয়; সেখানেও অবশ্য অফিসিয়াল সেবা ছাড়া অন্য কাউকে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলযাত্রীরা অনলাইনে টিকিট নেবার পর থেকে বিভিন্ন প্রতারণার শিকার হওয়া বিষয়ে নিজেরই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তারা বলেন, অনেক সময় সামাজিক মাধ্যমে টিকিট পাওয়া বা নেন-দেন সহজ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারকরা ভুক্তভোগীর বিশ্বাস অর্জন করে টাকা নেন এবং পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে তখনই যখন যাত্রীদের ভ্রমণ সম্পর্কিত সময় কম এবং তারা দ্রুত টিকিট পেতে চান। রেলওয়ে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে অফিসিয়াল অ্যাপ ও হটলাইনে যোগাযোগ করে যাচাই করে নিতে হবে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশনা আর্থিক লেনদেন নিরাপদ রাখার পাশাপাশি ট্রেন অবৈধভাবে দখল হওয়া বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে জটিলতা রোধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা বলছেন, অনলাইন প্রতারণা মোকাবিলায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও অংশগ্রহণ করলে ব্যাপারটি অনেক সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়; ফলে রেলওয়ে এখন তালিকাভুক্ত মেসেজিং, কল-সেন্টার ও অ্যাপ সিকিউরিটি জোরদার করার পরিকল্পনা করছে।

যাত্রী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও রেলওয়ের নির্দেশকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। তাদের বক্তব্য, মানুষ যখন সরকারি নির্ধারিত অ্যাপ ব্যবহার করবে এবং আইডি যাচাইয়ের নিয়ম মেনে চলবে, তখন ভ্রমণকালে হয়রানি ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি অনেকাংশে কমে যাবে। তবে সংগঠনগুলো সতর্ক করে দিয়েছেন যে, স্কুল-কলেজ বন্ধকালীন বা উৎসব মৌসুমে অনলাইন লোড বেড়ে গেলে টিকিট ক্রয়ের সুবিধার অভাব প্রতারণাকারীদের সুযোগ করে দিতে পারে; সেক্ষেত্রে রেলওয়ের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কাস্টমার সাপোর্ট ও শ্রমিক মোতায়েন জরুরি।

পরিশেষে বাংলাদেশ রেলওয়ে যাত্রীদের সতর্ক করে দিয়েছে—টিকেট ক্রয়ের ক্ষেত্রে শুধু নির্ধারিত ‘রেল সেবা’ অ্যাপ ব্যবহার করুন, কেউ ফোন বা অনলাইনে টিকেট দিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে অফিসিয়ালি যাচাই করে নিন, এবং সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য রেলওয়ের হটলাইন ১৩১-এ জানিয়ে দ্রুত সহায়তা নিন। রেলওয়ের এই নির্দেশনা ট্রেন ভ্রমণে যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়াতে এবং প্রতারণার শিকার কমাতে একটি বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে; তবে এর সফলভাবে বাস্তবায়ন হতে হলে যাত্রী, প্রশাসন ও প্রযুক্তি প্রোভাইডারের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত