জমি বিরোধে পৈতৃক ঘরে হামলা, বাড়িছাড়া বৃদ্ধের জীবন বিপন্ন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৮ বার
জমি বিরোধে পৈতৃক ঘরে হামলা, বাড়িছাড়া বৃদ্ধের জীবন বিপন্ন

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

টাঙ্গাইলের মধুপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে নিজের ছেলের হাতে গুরুতরভাবে পিটিয়ে আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ৮০-ঊর্ধ্ব অসুস্থ বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রত্যক্ষ পর্যালোচনা থেকে দেখা গেছে, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবার সহিংসতার রূপ নিয়েছে। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) মধুপুর পৌরসভার মাস্টারপাড়া আবাসিক এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আহত বৃদ্ধ খোরশেদ আলী জানান, তার ছেলে মীর আব্দুল লতিফ ভোলা গত ৭ এপ্রিল একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। নিহত ছেলের অংশের ৬ শতাংশ জমি তিনি ছেলের তিন কন্যাসন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তার ছেলের বউ হালিমাকে লিখে দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই জমিতে হালিমা ঘর নির্মাণ করার পর অপর ছেলে আব্দুল হালিম ও তার অনুর্ধ্ব পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধর করে। বৃদ্ধ খোরশেদ আলী জানান, মারধরের সময় তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে কোনো রকমে রক্ষা পান, কিন্তু তার চিৎকারে নাতনি এবং ছেলের বউও হামলার শিকার হন।

হামলার পর বৃদ্ধ খোরশেদ আলী এবং তার পরিবারের অন্যান্য সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার সময়ও বাধার সম্মুখীন হন। তিনি মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ভয়ঙ্কর এই হামলার পর তিনি নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করছেন। বৃদ্ধ এবং তার পরিবারের দাবি, এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।

আহত খোরশেদ আলীর ছেলে-বউ হালিমা বেগম জানান, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা এবং তাদের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, “আমাদের পরিবারের প্রাপ্য সম্পত্তি রক্ষায় এমন সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পুলিশ যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।”

অন্যদিকে, নাতনি লিপিকা বেগম বলেন, পারিবারিক সম্পত্তি দাদা লিখে দেওয়ায় চাচা-চাচিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় এলাকার কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছেন। এই ধরনের রাজনৈতিক পাঁয়তারা বৃদ্ধ পরিবারের জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে এবং তাদের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে।

মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমরানুল কবীর জানান, এ ঘটনায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) হয়েছে। তিনি বলেন, “পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের পারিবারিক বিরোধ প্রায়ই স্থানীয় সম্পত্তি সংক্রান্ত ভুল বোঝাবুঝি ও লোভের কারণে সহিংস রূপ নেয়। বিশেষত, বড় পরিবারের মধ্যে এমন বিরোধের কারণে বৃদ্ধ, মহিলারা ও শিশুদের নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পত্তি হস্তান্তর ও ভাগবণ্টনের সময় স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং নথিভুক্তি নিশ্চিত করা গেলে এমন সহিংসতার ঘটনা কমে আসতে পারে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দেখা যায়, পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ শুধু বৈবাহিক সম্পর্কের নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও নিরাপত্তার সমস্যা তৈরি করে। বৃদ্ধ খোরশেদ আলীর মতো বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা এই ধরনের ঘটনার পরে মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এছাড়া, পারিবারিক সংঘাতের ফলে স্থানীয় সম্প্রদায়ে বিভাজন তৈরি হয়, যা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

মধুপুর এলাকায় এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে সতর্ক ও তৎপর থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞরা দিয়েছেন। তারা আরও উল্লেখ করেছেন যে, পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ হওয়ার ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা এবং বৈধ নথি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। পুলিশ ও প্রশাসনকে এ ধরনের ঘটনার প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।

বৃদ্ধ খোরশেদ আলীর অভিযোগ এবং পরিবারের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সমাজে একটি বড় ধরনের সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ ধরনের সহিংসতার ঘটনা প্রতিরোধ করতে আইনগত সহায়তা, সামাজিক সমাধান এবং পারিবারিক মধ্যস্থতার প্রয়োজনীয়তা আবারও প্রমাণিত হচ্ছে। পুলিশের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা ছাড়া, বৃদ্ধ, মহিলা ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

বর্তমানে ঘটনার তদন্ত চলছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, পুলিশ এবং প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে অভিযুক্তরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পান এবং ভয়ঙ্কর পারিবারিক সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়। একই সঙ্গে, পরিবার পুনরায় শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশে বসবাস করতে পারবে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত