কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি নীতিমালা প্রকাশিত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬১ বার
কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি নীতিমালা প্রকাশিত

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (বিটিবি) দেশের অষ্টম শ্রেণির ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের জন্য ‘জেএস (ভোকেশনাল) ও জেডি (ভোকেশনাল) বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা–২০২৫’ প্রকাশ করেছে। এই নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছে এবং এতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিস্তারিত নিয়ম, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং বৃত্তি প্রদানের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। নীতিমালার উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারিগরি ও মেধা ভিত্তিক প্রতিভা চিহ্নিত করা, সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।

নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, বোর্ডের অধিভুক্ত অষ্টম শ্রেণির সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হবে ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে, যা তাদের শিক্ষাগত ফলাফল এবং প্রদত্ত দক্ষতা পর্যালোচনা করে নির্ধারণ করা হবে। এতে শিক্ষার্থীরা দুটি মূল ধরণের বৃত্তির জন্য মনোনীত হবেন— সাধারণ বৃত্তি এবং ট্যালেন্টপুল বৃত্তি।

পরীক্ষা কাঠামো অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের পাঁচটি বিষয়ের উপর পরীক্ষা দিতে হবে। এই বিষয়গুলো হলো— বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান, এবং জেএস শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বা জেডি শিক্ষার্থীদের জন্য কুরআন মাজিদ। এছাড়া কর্মমুখী প্রকৌশল শিক্ষা–৩ বিষয়টিও পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি বিষয়ে পূর্ণমান নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ নম্বর এবং মোট পরীক্ষার মান ৫০০। পরীক্ষার সময়সীমা তিন ঘণ্টা।

বৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মধ্যে লিঙ্গভিত্তিক সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ছাত্র ও ছাত্রী উভয়ের জন্য বৃত্তির সংখ্যা সমানভাবে ৫০-৫০ ভাগে নির্ধারিত থাকবে। নীতিমালায় নির্দেশনা আছে, যদি কোনো শ্রেণিতে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া যায়, তবে অপর শ্রেণির শিক্ষার্থী সেই কোটা পূরণ করতে পারবে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একজন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হবে, যাতে দেশের সকল অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সুযোগ পায়।

পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে পরীক্ষার্থী প্রতি ৪০০ টাকা বোর্ড ফি এবং ২০০ টাকা কেন্দ্র ফি। ফি সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল মাধ্যমে, অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এটি পরীক্ষার্থীদের জন্য সহজলভ্য ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে।

নীতিমালায় বৃত্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি, নির্বাহী কমিটি এবং জেলা কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি থাকবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা উপদেষ্টা এবং সদস্যসচিব হবেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কারিগরি)। এই কমিটি পরীক্ষার পরিকল্পনা, তদারকি এবং নিয়মিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া তদারকি করবে।

প্রত্যেক জেলা সদরেই পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। কেন্দ্র সচিব, হল সুপার, ইনভিজিলেটর এবং অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য বিস্তারিত দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র অনলাইনে প্রেরণ, প্রবেশপত্র ইস্যু এবং পরীক্ষা পরিচালনার পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটালভাবে সম্পন্ন হবে। এটি পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে পাঠানো নির্দেশনাপত্রে বলা হয়েছে, সকল কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নীতিমালার নির্দেশনা অনুযায়ী বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরীক্ষা কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, পরীক্ষার স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নীতিমালার মাধ্যমে বোর্ড শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিভা নির্ধারণের পাশাপাশি তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা এবং পরীক্ষার নিয়মকানুন মেনে চলার চেতনা গড়ে তুলতে চায়। শিক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি অর্থনৈতিক সুবিধা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও মানসিক সক্ষমতা উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষকরা জানিয়েছেন, এই বৃত্তি শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি করবে এবং তাদের পেশাগত ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি করবে। বিশেষ করে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি শিক্ষার্থীদের জন্য এক নতুন সুযোগ হিসেবে কাজ করবে, যা তাদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে উদ্দীপিত করবে।

নীতিমালার মাধ্যমে বোর্ড চায়, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করবে এবং দেশের কারিগরি শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে। এটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সার্বিকভাবে, এই নীতিমালা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এটি শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং পুরো কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত