লিবিয়া থেকে ফিরছেন আজ আরও একদল অভিবাসী শ্রমিক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪০ বার
লিবিয়া থেকে ফিরছেন আরও একদল অভিবাসী শ্রমিক

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক

লিবিয়ার অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দীর্ঘদিনের অস্থিরতার মধ্যে আটকে পড়া আরও ৩০৯ জন বাংলাদেশি অবশেষে স্বদেশের পথে ফিরছেন। বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়ার নিরলস প্রচেষ্টা ও লিবিয়ার জাতীয় ঐক্যমতের সরকারের সার্বিক সহায়তায় এই বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাতে ত্রিপলি থেকে তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়, এবং আজ শুক্রবার বেলা প্রায় ১১টার দিকে ফ্লাই ওয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

লিবিয়ায় বাংলাদেশের দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ও মিনিস্টার (পলিটিক্যাল) কাজী আসিফ আহমেদ স্বয়ং দূতাবাস প্রাঙ্গণে উপস্থিত থেকে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম তদারকি করেন এবং ফেরত আসা অভিবাসীদের বিদায় জানান। এ সময় দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. রাসেল মিয়া এবং অন্যান্য কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বিদায় মুহূর্তে কাজী আসিফ আহমেদ বলেন, “আমরা দিনরাত পরিশ্রম করেছি যেন প্রত্যেক অভিবাসী নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরতে পারেন। এই প্রচেষ্টার ফলেই আজ ৩০৯ জন বাংলাদেশি তাদের পরিবারের কাছে ফিরতে পারছেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “লিবিয়া সরকারের সহযোগিতায় এই প্রথম এত বড় পরিসরে বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে। এটি উভয় দেশের মানবিক সহযোগিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।”

দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জানান, তাদের এই প্রচেষ্টা এখানেই শেষ নয়। দূতাবাস ইতোমধ্যে লিবিয়া সরকারের সঙ্গে আরও দুটি ফ্লাইটের মাধ্যমে প্রায় ছয় শতাধিক অভিবাসীকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সমন্বয় করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই পরবর্তী প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

লিবিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশের অনেক নাগরিকই গত কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং কর্মসংস্থানের সংকটে ভুগছেন। বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের জীবন ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। ফলে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার জন্য অনেকেই দূতাবাসের কাছে আবেদন করে আসছিলেন। দূতাবাসের ধারাবাহিক উদ্যোগ এবং লিবিয়া সরকারের সহযোগিতার ফলেই এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রত্যাবাসনের সময় লিবিয়া সরকারের মিডিয়া টিমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কাজী আসিফ আহমেদ বলেন, “লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় করে আমরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী নিবন্ধিত অভিবাসীদের পর্যায়ক্রমে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছি। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ শুধুমাত্র দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে।”

তিনি বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে লিবিয়া সরকারের সহায়তার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আশা করেন, ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে ত্রিপলির বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চলাকালে ছিল আবেগঘন দৃশ্য। অনেকেই দেশের মাটিতে ফিরে যাওয়ার আনন্দে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ বলছিলেন, “যুদ্ধের ভয় আর অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পেয়ে নিজের দেশে ফিরে যাচ্ছি, এ যেন নতুন জীবনের শুরু।”

লিবিয়ায় প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি বিভিন্ন খাতে কর্মরত রয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। দেশটির চলমান সংঘাত, অর্থনৈতিক সংকট এবং মানবপাচারকারীদের দৌরাত্ম্যের কারণে অনেকেই বিপদে পড়েছেন। বাংলাদেশের সরকার ও দূতাবাস এইসব অভিবাসীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে।

মানবপাচার এবং অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি কমাতে দূতাবাস ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ে তথ্যভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। কর্মকর্তারা জানান, এই ধরনের প্রত্যাবাসন উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন বিপদাপন্ন শ্রমিকরা নিরাপত্তা ফিরে পাচ্ছেন, অন্যদিকে দেশের ভাবমূর্তিও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

দেশে ফিরে আসা শ্রমিকদের জন্য সরকার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুনর্বাসন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তাদের আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদানের বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত