প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
“আমি কাজের জন্য বাসায় ছিলাম না। আমার ছেলে খেলতে গিয়েছিল। হঠাৎ ফোনে খবর পাই সে গুরুতর আহত হয়েছে। ময়লার পাশে যে জিনিসটা কুড়িয়ে পেয়েছিল, সেটা নাকি হাতে নিয়েই বিস্ফোরণ হয়। এখন জানি না আমার ছেলেটা বাঁচবে কি না।”
রাজধানীর মিরপুর আনসার ক্যাম্প বিহারী পাড়ায় ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। খেলতে বেরিয়ে ময়লার স্তূপের পাশে কুড়িয়ে পাওয়া একটি অজানা বস্তুর বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়েছে তামিম হোসেন (১০) নামে এক শিশু। শুক্রবার সকাল দশটার দিকে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া।
আহত তামিম স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শিশু শ্রেণিতে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটে হঠাৎ করেই—তামিম যখন খেলতে খেলতে ময়লার স্তূপের পাশে একটি অচেনা বস্তু হাতে তোলে, মুহূর্তের মধ্যেই সেটি বিস্ফোরিত হয়। আশপাশে থাকা মানুষজন দৌড়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ঢামেক সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণে শিশুটির ডান হাত ও পেটে গুরুতর আঘাত লেগেছে। বর্তমানে সে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
আহত শিশুর মা নার্গিস আক্তার এক কণ্ঠে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমি কাজের জন্য বাসায় ছিলাম না। আমার ছেলে খেলতে গিয়েছিল। হঠাৎ ফোনে খবর পাই সে গুরুতর আহত হয়েছে। ময়লার পাশে যে জিনিসটা কুড়িয়ে পেয়েছিল, সেটা নাকি হাতে নিয়েই বিস্ফোরণ হয়। এখন জানি না আমার ছেলেটা বাঁচবে কি না।”
ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, “শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার অবস্থা সংকটাপন্ন। আমরা মিরপুর থানাকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধান চলছে।”
পুলিশ ধারণা করছে, বিস্ফোরকটি সম্ভবত একটি অব্যবহৃত ককটেল বা অনুরূপ কোনো বিস্ফোরক হতে পারে, যা স্থানীয় দুষ্কৃতকারীদের রেখে যাওয়া ছিল। তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ঘিরে নমুনা সংগ্রহ করেছেন এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাটি যাচাই করছে।
শিশু তামিমের পরিবার বর্তমানে গভীর সংকটে রয়েছে। জানা গেছে, তার বাবা আনোয়ার হোসেন পেশায় একজন রিকশাচালক, যিনি বর্তমানে লিভারের জটিল রোগে ভুগছেন এবং চিকিৎসাধীন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ থাকায় এই দুর্ঘটনা যেন তাদের জীবনে নতুন এক দুর্যোগ হয়ে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, এলাকায় পরিত্যক্ত বা সন্দেহজনক বস্তুর ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে।
মানবিক দিক থেকে এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে শহরের অগোছালো ময়লা ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা তদারকির ঘাটতির করুণ চিত্র। একটি শিশুর সরল খেলাধুলা মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে আজীবন দুঃস্বপ্নে ,এই দায় কে নিবে একটি ফুটফুটে জীবনের?