প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চানপুর চা বাগানে এক মর্মান্তিক ঘটনায় একই পরিবারের তিন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে বাগানের পাশের একটি জলাশয়ে তিন শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। তারা বিয়েবাড়িতে দাওয়াতে গিয়ে খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতরা হলেন রামগংগা গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়ার কন্যা মোছকান আক্তার (১৩), সাজিদ আলীর কন্যা শামিমা আক্তার (১২), এবং মজিদ আলীর কন্যা ছানিয়া আক্তার (৯)। স্থানীয়রা জানান, বাগানে তাদের পরিবারের সঙ্গে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। দুপুরের পর থেকে তিন শিশুর কোন খোঁজ না পেয়ে পরিবার খুঁজতে থাকে। বাগানের পাশের জলাশয়ে তাদের লাশ ভেসে উঠলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল ইসলাম সংবাদদাতাকে জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে শিশুরা পানিতে ডুবে মারা গেছে। তিনি বলেন, “তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে তদন্ত চলছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয়দেরও সচেতন করা হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বিয়েবাড়িতে শিশুরা খেলাধুলার সময় কোনো সতর্কতা ছিল না এবং জলাশয়টি শিশুরা সহজেই প্রবেশ করতে পারবে এমন অবস্থায় ছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে শোক এবং উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা শিশুদের পরিবারের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব পুনর্বার মনে করিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ছোটদের জন্য নিরাপদ খেলার পরিবেশ নিশ্চিত না করা এবং খোলা জলাশয়ের পাশে পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব হলো শিশুদের নিরাপদ রাখার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া।
স্থানীয় প্রশাসনও সতর্ক করে জানিয়েছে, বিয়েবাড়ি বা উৎসবের সময় শিশুদের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি রাখা প্রয়োজন। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করছে এবং প্রাথমিকভাবে শিশুদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
এই দুর্ঘটনা পরিবারের জন্য অশেষ শোকের কারণ হয়েছে। নিহতদের বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজন গভীরভাবে শোকাহত। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শিশুদের নিরাপত্তা ও সচেতনতা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলছেন, বিয়েবাড়ি বা উৎসবকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানে শিশুদের খেলার স্থান নির্ধারণ করা উচিত এবং খোলা জলাশয় বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে শিশুদের দূরে রাখা প্রয়োজন।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নতুন নির্দেশনা কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিরাপত্তা এবং সচেতনতার মাধ্যমেই ভবিষ্যতে শিশুদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকা শোকস্তব্ধ। মানুষ শিশুদের প্রতি দয়া ও নিরাপত্তার গুরুত্ব পুনর্বার অনুভব করেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, পরিবারের জন্য প্রশাসন যথাযথ সহায়তা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিশ্চিত করবে, যাতে তারা মানসিক ও সামাজিকভাবে সহায়তা পায়।
এভাবে চুনারুঘাটে তিন শিশুর মৃত্যু শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে, যে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব।