প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ এবং সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে ভোট শুরু হয়ে বিকেল ৪টায় শেষ হয়। ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রীয়ভাবে ফল গণনা শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা থেকে।
বিকেল ৫টায় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে কেন্দ্রীয়ভাবে ১৭টি ভোটকেন্দ্রের ফল গণনা শুরুর কথা থাকলেও নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক পারভেজ আজহারুল হক বলেন, “৫টায় ভোট গণনা শুরুর কথা থাকলেও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়াগত কারণে গণনা ৬টায় শুরু হবে।” ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে এখনও ভোট না দেয়া শিক্ষার্থীদের লাইনে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানানো হয়। এরপর কেন্দ্রে গেট বন্ধ করে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে ভোট গণনার কার্যক্রম শুরু হয়।
নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা কামাল আকন্দ জানান, ভোট গণনা শেষে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন থেকে ফল প্রকাশ করা হবে। ভোট ব্যালট বাক্সগুলো ন্যায্যভাবে গণনার সুবিধার্থে ১০০টি করে পৃথক বান্ডেলে ভাগ করা হবে। প্রতিটি বান্ডেলের ভোট ওএমআর মেশিনের মাধ্যমে গোনা হবে, যা বিশেষজ্ঞ প্যানেল পর্যবেক্ষণ করবে। তিন ধাপে চূড়ান্ত ফল তৈরি হবে। একটি হলের ফল গণনা শেষ হলে পরবর্তী হলের গণনা শুরু হবে। আনুমানিক ২৮৩টি পদে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করতে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
সকাল সোয়া ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী সরঞ্জামাদি বিতরণ শুরু হয়। প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে হালনাগাদ ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ওএমআরযুক্ত ব্যালট পেপার, অমোচনীয় কালি এবং অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮,৯০১। ভোটগ্রহণ ৯টি একাডেমিক ভবনের ১৭টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় রাকসুর ২৩টি পদে মোট ৩০৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদ রয়েছে। সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধির পাঁচটি পদে ৫৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে ১৭টি হল সংসদের ২৫৫টি পদে মোট ৫৫৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটারের মধ্যে ৩৯.১০ শতাংশ নারী এবং ৬০.৯০ শতাংশ পুরুষ।
নির্বাচনী দিনটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশন সার্বক্ষণিক নজরদারি রেখেছে। ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ ও আগ্রহ যথেষ্ট বেশি ছিল। শিক্ষার্থীরা সকালে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার ব্যবহার করেছেন।
ভোট গণনার ধাপে ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষক ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রত্যেক প্রার্থীর ভোট নির্ভুলভাবে গণনা করার জন্য ব্যালটগুলোকে সাবধানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কমিশন নিশ্চিত করেছে যে, কোনো ধরনের অনিয়ম বা অভিযোগ হলে তা যথাযথভাবে অনুসন্ধান করা হবে।
রাকসু নির্বাচন শুধুমাত্র ছাত্র সংসদ নির্বাচনের হিসেবে নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাজনীতির প্রমাণ হিসেবেও দেখা হয়। শিক্ষার্থীরা নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশ করে এবং নেতৃত্ব নির্বাচন করে। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সুষ্ঠু পরিবেশের নিশ্চয়তা দিচ্ছে।
নির্বাচনী প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, ভোট গণনার কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হবে এবং নিরপেক্ষভাবে ফল ঘোষণা করা হবে। রাকসু নির্বাচনের ফলাফল শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভবিষ্যত নেতৃত্ব গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।