১৭ ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম ইপিজেডের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬৪ বার
১৭ ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম ইপিজেডের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা সিইপিজেডে বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটা ১০ মিনিটে আগুন লেগে শুরু হওয়া তাণ্ডব দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টা পর্যন্ত চলার পর শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবনটি অতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, ছাদ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং ভবনটির সকল তলায় ব্যবহৃত কাঠামোগত উপকরণও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

আগুনের সূত্রপাতের কারণ খতিয়ে দেখার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিইপিজেড কর্তৃপক্ষ দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার ফলে কোনো মানুষ হতাহত হননি। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক তাজুল ইসলাম বলেন, “আগুন লাগার সাথে সাথে সিইপিজেড কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে সবাইকে নিরাপদে বের করতে সক্ষম হয়েছেন। এটি খুবই স্বস্তির খবর।”

তিনি আরও জানান, আগুনের তাণ্ডবটি বাড়তে সময় লেগেছে কারণ ভবনটি দুই পাশে খোলা ছিল এবং পাশের ভবনগুলো খুব ঘনিষ্ঠভাবে বসে ছিল। ভবনের ভিতরে চারটি তলে গুদামঘর ছিল, যেখানে ডাক্তারদের জন্য বিভিন্ন গাউন তৈরি হতো এবং তাতে ব্যবহৃত পদার্থ দাহ্য হওয়ার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়েছে। ভবনটির কোড মানা হয়নি, ফলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সময়মতো পৌঁছাতে পারেননি। তবে তাদের সক্রিয় প্রচেষ্টায় আগুন পাশের ভবনে ছড়ায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবনটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং সেখানে প্রবেশ করা নিষেধ। ভবনটির সামনে ব্যানার স্থাপন করে সতর্কতা জানানো হবে এবং ভবনটি অপসারণ করা হবে কি না তা সার্ভে করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়াও ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।

সিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক আবদুস Sobhan বলেন, “আগুন লাগার পর আমাদের প্রথম কাজ ছিল এলাকাটি কর্ডন করা এবং শ্রমিকদের নিরাপদে সরানো। কোনো আহত বা Casualty রিপোর্ট করা হয়নি। সমস্ত প্রতিষ্ঠান উৎপাদন শুরুর আগে ফায়ার কমপ্লায়েন্স সনদ গ্রহণ করে। আগুনের আগে শ্রমিকদের ফায়ার ড্রিলও করানো হয়েছিল।”

অগ্নিকাণ্ডটি অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড ও জিহং মেডিক্যাল কোম্পানির গুদামে ঘটেছে। এ দুটি কারখানা সাততলা ভবনে অবস্থান করছিল, এবং আগুনের সূত্রপাতও এই গুদামগুলো থেকেই হয়। অ্যাডামস তোয়ালে ও ক্যাপ এবং জিহং মেডিক্যাল সার্জিক্যাল গাউন উৎপাদন করতো।

ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ২৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। অতি দাহ্য পদার্থের কারণে আগুন নেভানোতে দেরি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের রোবটিক ইকুইপমেন্টও ব্যবহৃত হয়েছে। রাতে বৃষ্টির কারণে আগুনের বিস্তার কিছুটা থেমে যায়, যা ফায়ার সার্ভিসের কাজকে সহজ করেছে। যদিও সকাল সাড়ে সাতটায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, পুরোপুরি আগুন নেভাতে আরও সময় লাগবে। বর্তমানে ১৭টি ইউনিট কাজ করছে।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক তাজুল ইসলাম আরও বলেন, ভবনটি কোনো প্রকার কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড শুধু কারখানা মালিকের নয়, দেশের জন্যও ক্ষতিকর। দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং সকলের সচেতনতা অপরিহার্য। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ এবং কমপ্লায়েন্সের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সিইপিজেড কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করেছেন, আগুন লাগার পর শ্রমিকদের নিরাপদে সরানো এবং ভবন সংলগ্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা তাদের প্রধান কাজ ছিল। তদন্ত কমিটি সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদনের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ চিহ্নিত করবে। তবে দুর্ঘটনার প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি এখনও সঠিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।

এদিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ভবনের ভিতরের অবকাঠামো এবং কলাম মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে গেছে। ভবনটি অপসারণ না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। সিইপিজেড কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ফায়ার কমপ্লায়েন্স নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

এ অগ্নিকাণ্ড দেশের শিল্পখাতের জন্যও বড় একটি সতর্কবার্তা। বিপুল ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে শুধু ফায়ার কমপ্লায়েন্স নয়, প্রতিটি কারখানা ও গুদামে নিয়মিত পরীক্ষা, মহড়া এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই ধরনের অগ্নিকাণ্ড রোধের জন্য সমস্ত শিল্পকেন্দ্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত