প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
আসন্ন ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে আগামীকাল শনিবার দেশের নির্দিষ্ট কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৃহস্পতিবার এক প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, হজ নিবন্ধনের অর্থ জমা গ্রহণ কার্যক্রম যেন বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য নির্দিষ্ট শাখাগুলোকে কর্মদিবসের মতোই চালু রাখতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, হজ নিবন্ধনের অর্থ জমা দিতে আগত আমানতকারীরা যতক্ষণ পর্যন্ত উপস্থিত থাকবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোকে সেই অর্থ গ্রহণ অব্যাহত রাখতে হবে। অর্থাৎ, দিনের নির্ধারিত ব্যাংকিং সময় শেষ হলেও হজ নিবন্ধনের জমা কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে হজ নিবন্ধনে আগ্রহী ব্যক্তিরা সময়মতো তাদের প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দিতে পারবেন, যা সামগ্রিক হজ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে খোলা থাকা শাখাগুলোর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। এর জন্য সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোকে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নির্দেশনা জারি করেছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। হজের আর্থিক লেনদেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কার্যক্রমে কোনো প্রকার জটিলতা না হয়, সেজন্য এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
হজ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রতিবছর হজ নিবন্ধনের সময় ব্যাংকে বিপুলসংখ্যক আবেদনকারী ভিড় জমায়। অনেক সময় কর্মদিবসের সীমিত সময়ে সবাই অর্থ জমা দিতে না পারায় অসুবিধার সম্মুখীন হন। তাই এবার আগেভাগে ব্যাংকগুলোকে বিশেষভাবে খোলা রাখার এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন হজযাত্রীরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শনিবার দেশের নির্দিষ্ট কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের নির্বাচিত শাখায় হজ নিবন্ধনের অর্থ জমা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো ইতোমধ্যে তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও স্থানীয় সংবাদপত্রের মাধ্যমে কোন কোন শাখা খোলা থাকবে সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, “আমরা চাই হজ কার্যক্রমে কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা আর্থিক বিলম্ব না ঘটে। এ বছর হজ নিবন্ধন প্রক্রিয়া যেন সময়মতো ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
এদিকে ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ নিবন্ধনের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় এখন প্রতিদিনই নিবন্ধনের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে ব্যাংক খোলা রাখার এই পদক্ষেপ হজযাত্রীদের জন্য স্বস্তি নিয়ে আসবে এবং সার্বিক হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।